সিলেট , ,

টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়ন: মিলল প্রাথমিক সত্যতা

News Room
প্রকাশিত October 24, 2026, 11:10 PM
টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়ন: মিলল প্রাথমিক সত্যতা

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করার পর এ তথ্য নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে (৩০) গ্রেপ্তার করে গত বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষককে মারধর এবং মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে শিশুটির পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে পরিবারের জিগ্‌জাবাদের মুখে সে নিপীড়নের বিষয়টি প্রকাশ করে। ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা সেখানে জড়ো হয়ে শিক্ষককে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং শিশুটির বাবার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ও সাক্ষ্যপ্রমাণে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের দাবি—শিশুটির বাবার নেতৃত্বে একদল লোক মাদ্রাসায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষককে মারধর করে। তবে শিশুটির বাবা এই অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা (মব) সৃষ্টি করতে যাননি, কেবল তাঁর মেয়ের ওপর হওয়া অমানবিক নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

For more information

আরো দেখুন