নিজস্ব প্রতিবেদক: গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সরাসরি দলীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২১ জানুয়ারি দিল্লির একটি সুরক্ষিত ও সুসজ্জিত প্রাসাদে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তাঁর সঙ্গে এই বিশেষ সাক্ষাৎ করেন। এক সপ্তাহের ভারত সফর শেষে গত ২৬ জানুয়ারি প্রতিনিধি দলটি লন্ডনে ফিরে যাওয়ার পর এই বৈঠকের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা: লন্ডন থেকে যাওয়া এই প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বৈঠকের অভিজ্ঞতা: সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শেখ হাসিনার সঙ্গে এই সাক্ষাৎটি ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তায় মোড়া। মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস এমনকি ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ যানে করে তাঁদের শেখ হাসিনার বর্তমান বাসভবনে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমরা সেখানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ছিলাম। পুরো সময়টি তিনি আমাদের দিয়েছেন। তাঁকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো অবনতি হয়নি, তবে সামান্য ওজন কমেছে বলে মনে হয়েছে।”
দিল্লিতে শেখ হাসিনার জীবনযাপন: যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওই নেতা আরও জানান, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে একটি বিশাল প্রাসাদে রেখেছে। সেখানে তাঁর সেবার জন্য অনেক কর্মী নিয়োজিত আছেন এবং বাসভবনটি কয়েক স্তরের বিস্তৃত নিরাপত্তাবলয় দিয়ে ঘেরা। শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা নিয়মিত বিরতিতে লন্ডন থেকে দিল্লি গিয়ে তাঁর সঙ্গে অবস্থান করেন বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
অডিও বার্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: এই সাক্ষাতের ঠিক দুই দিন পর, ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য শোনানো হয়। যদিও ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে বা কোনো ভিডিও কনফারেন্সে দেখা যায়নি। এদিকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে অবসরের পরিকল্পনা করছেন এবং সুযোগ পেলে দেশে ফিরে সাধারণ জীবনযাপন করতে চান।
আইনি জটিলতা ও সরকারের অবস্থান: বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে কয়েকশ মামলা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের অনুরোধ জানালেও দিল্লির পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
For more information
আরো দেখুন