সিলেট ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগে ১৫ বছরের লুটপাট: প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৭ পৃষ্ঠার পাহাড়সম অভিযোগ

News Room
প্রকাশিত মার্চ ৪, ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগে ১৫ বছরের লুটপাট: প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৭ পৃষ্ঠার পাহাড়সম অভিযোগ

জুলকার নাইন সাইরাস,ডেস্ক রিপোর্ট
সিলেট ও ছাতক বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে গত ১৫ বছর ধরে চলা নজিরবিহীন দুর্নীতি, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং সরকারি মালামাল চুরির ফিরিস্তি এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সেবুল মিয়া নামে এক সচেতন নাগরিক প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং দুদকের মহাপরিচালকসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে এই পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।

২০১১-২০২৬: সরকারি স্টোর যখন সিন্ডিকেটের গুদাম

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্ধারকৃত পুরাতন তার, ট্রান্সফরমার, খুঁটি এবং মূল্যবান কপার-অ্যালুমিনিয়াম সরকারি স্টোরে জমা না দিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এই পাচার চক্রের সঙ্গে বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির, স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদার এবং একটি ভাঙ্গারি সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে। বিশেষ করে ঢাকা মেট্রো-ড ১২-২৮৬৩ নম্বর ট্রাক ব্যবহার করে নিয়মিত নতুন তামার তার ঢাকায় পাচার করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

জাইকা ও ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ প্রকল্পে লুটতরাজ

  • জাইকা প্রকল্প: ২০১১ সালে জাইকার অর্থায়নে ছাতক বিদ্যুৎ প্রকল্পে উচ্চমানের তামার তার সরিয়ে নিম্নমানের অ্যালুমিনিয়াম তার বসিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ফলে লাইন দুর্বল হয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট স্থায়ী রূপ নেয়।

  • ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ: ২০১৮ সালের এই প্রকল্পে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে বিশেষ করে ছাতক, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুরে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৫-৩০ কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলায় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।

সেনা অভিযানে গ্রেফতার ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বদলি বাণিজ্য

ছাতকের দেওকাপন গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে চাঁদা দাবি করতে গিয়ে সেনাক্যাম্পের অভিযানে হাজী শহীদ তালুকদারসহ দুইজন গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলেও মোটা অঙ্কের বিনিময়ে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া যুবলীগ-আওয়ামী লীগ পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগে বদলি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরের বদলি ও তদন্ত

অভিযোগ জমা পড়ার পরপরই গত ২ মার্চ বিদ্যুৎ বিতরণ অঞ্চল সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। এই আদেশকে কেন্দ্র করে সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমানে একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

সিলেটের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় এই বিদ্যুৎ খেকো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করা হবে।

For more information

আরো দেখুন