প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আস্তানায় হানা
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘বোমা মেশিন’ ব্যবহার করে টিলা ধ্বংস করে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের পরিচয়
আটককৃতরা সবাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন: ১. মাহমুদুল (২১), ২. সাকিবুল হাসান (১৯), ৩. লালন (২০), ৪. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩২), ৫. ইয়াকুব আলী (৩৬), ৬. কামরুল (২৫), ৭. আব্দুল করিম (২৭), ৮. আবু বক্কর (২২), ৯. শফিক মিয়া (৪২), ১০. রুহুল আমিন (৩০), ১১. কামরুজ্জামান (৩০), ১২. লাল মিয়া (২৮), ১৩. আখতার মিয়া (২৮), ১৪. শরিফ উদ্দিন (১৯), ১৫. সুলতান উদ্দিন (২২) এবং ১৬. আল আমীন হোসেন (৩২)।
পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
পুলিশ জানায়, আটককৃতরা সরাসরি টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের অবৈধ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল। এর আগে যৌথ বাহিনীর এক অভিযানে এই টিলা ধ্বংসে ব্যবহৃত ৫৬টি বোমা মেশিন ও ট্রাক্টর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। এরপরও গোপনে পাথর উত্তোলন চালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল: কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত নিথর জনসমুদ্র
বিপর্যস্ত পরিবেশ, স্থানীয়দের উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই অবৈধ পাথর উত্তোলনের ফলে শাহ আরেফিন টিলার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। অপরাধী চক্রটি টিলার মাটি গভীরে খনন করায় আশপাশের এলাকাগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
For more information
আরো দেখুন