সিলেট ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমিরাতে নিহত বড়লেখার সালেহ: পরিবারের খোঁজ নিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক

News Room
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ণ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমিরাতে নিহত বড়লেখার সালেহ: পরিবারের খোঁজ নিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা | ০৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের বলি হয়েছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কৃতি সন্তান সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৫০)। গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি প্রাণ হারান। এই শোকাবহ ঘটনায় নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

মন্ত্রীর সান্ত্বনা ও আশ্বাস

সোমবার (২ মার্চ) সকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহত সালেহ উদ্দিনের ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি শোকাতুর পরিবারকে গভীর সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান। মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “সালেহ উদ্দিনের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনসুলেটের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।”

যেভাবে ঘটল মর্মান্তিক এই মৃত্যু

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সালেহ উদ্দিন বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে তিনি জীবিকার তাগিদে আরব আমিরাতে বসবাস করছিলেন এবং আজমান শহরে পানি সরবরাহের গাড়ি চালাতেন। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর তিনি গাড়ি নিয়ে পানি সরবরাহ করতে বের হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তাঁর গাড়ির ওপর পড়ে। এতে তিনিসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা সালেহ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকায় শোকের ছায়া

সালেহ উদ্দিনের মৃত্যুর খবর রবিবার বড়লেখায় পৌঁছালে পুরো গাজিটেকা গ্রামসহ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা। প্রতিবেশীরা জানান, সালেহ একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও অমায়িক মানুষ ছিলেন। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মরদেহ আনতে কিছুটা জটিলতা থাকলেও, সরকারের বিশেষ তদারকিতে দ্রুতই তাঁকে নিজ বাড়িতে শেষ বিদায় জানানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে পরিবার।

For more information

আরো দেখুন