আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০১ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটিতে এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের নির্বাসিত ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইরানের শাসনভার গ্রহণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া: তিন সদস্যের পর্ষদ
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশ পরিচালনার ভার চলে যাবে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী পর্ষদের কাছে। এই পর্ষদে থাকছেন: ১. ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ২. বিচার বিভাগের প্রধান। ৩. গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা। এই পর্ষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবে। তবে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুতে এই প্রক্রিয়া কতটা নির্বিঘ্ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ক্ষমতার দাবিদার যারা: সম্ভাব্য বিকল্প শক্তি
ইরানের বর্তমান ইসলামি বিপ্লবী সরকার যদি সংকটের মুখে পড়ে, তবে সম্ভাব্য যে শক্তিগুলো সামনে আসতে পারে:
১. পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন (মুজাহিদিন-এ খালক): মরিয়ম রাজাভির নেতৃত্বে এই গোষ্ঠীটি বর্তমানে প্যারিস ও আলবেনিয়া থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। যদিও ইরান-ইরাক যুদ্ধে ইরাকের পক্ষ নেওয়ায় ইরানের অভ্যন্তরে তাদের জনপ্রিয়তা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে পশ্চিমা বিশ্বে তাদের শক্তিশালী রাজনৈতিক লবি রয়েছে। মরিয়ম রাজাভি বর্তমানে ‘ইরানের জাতীয় প্রতিরোধ পরিষদের (এনসিআরআই)’ প্রধান হিসেবে নিজেকে বিকল্প নেতৃত্বের দাবিদার ভাবছেন।
২. নির্বাসিত রাজতন্ত্র ও রেজা পাহলভি: বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। খামেনির মৃত্যুর পর তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। তিনি গণভোটের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রবাসী ইরানিদের একটি বড় অংশ তাঁকে সমর্থন দিলেও দেশের ভেতরের সাধারণ মানুষ রাজতন্ত্রকে কতটা গ্রহণ করবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
৩. জাতিগত সংখ্যালঘু ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী: কুর্দি ও বালুচ সংখ্যালঘুরা দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের শিয়া সরকারের বিরোধী। পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান এবং পাকিস্তান সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তানে সুন্নি আলেম ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই সুযোগে নিজেদের স্বায়ত্তশাসন বা ক্ষমতা সংহত করার চেষ্টা করতে পারে। তবে একক কোনো নেতৃত্ব না থাকায় তারা জাতীয় পর্যায়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান সংকট কেবল নেতৃত্বশূন্যতা নয়, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ বা আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আইআরজিসি (IRGC)-এর অবশিষ্টাংশ যদি শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
For more information
আরো দেখুন