সিলেট ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সাবেক উপদেষ্টাদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম: জনরোষের আতঙ্কে মিন্টো রোড

News Room
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ণ
সাবেক উপদেষ্টাদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম: জনরোষের আতঙ্কে মিন্টো রোড

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার সচিবালয় ও মন্ত্রিপাড়া সরগরম হয়ে উঠেছে আবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে। গত ১৮ মাস রাষ্ট্র পরিচালনাকারী সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশ ‘মব ভায়োলেন্স’ বা জনরোষের আতঙ্কে সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই খালি করতে হবে মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডের বাংলোগুলো।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জনরোষের কারণ

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব ভায়োলেন্সে ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের।

সাবেক এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভাঙচুর, মাজার ভাঙচুর, গণহারে মামলা এবং আন্দোলনের নাম দিয়ে চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই নিরাপত্তা হীনতা থেকেই মূলত তাঁরা কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত সরকারি বাসভবন ছাড়তে সময় চাচ্ছেন।

আবাসন পরিদপ্তরের আল্টিমেটাম

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাবেক উপদেষ্টাদের জন্য কোনো স্থায়ী নীতিমালা বা পেনশন সুবিধা নেই। তাই তাঁদের বাসা ছেড়ে দিতে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। কেউ বিশেষ প্রয়োজনে মার্চ বা এপ্রিল পর্যন্ত থাকতে চাইলে তাঁকে সরকারি হারে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।

যমুনা ছাড়ছেন ড. ইউনূস

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে দেবেন। তিনি তাঁর গুলশানের ব্যক্তিগত বাসভবনে ফিরে যাবেন বলে জানা গেছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ‘যমুনা’কে সাময়িকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

নতুন মন্ত্রিসভার আবাসন চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী রয়েছেন আরও ১০ জন। অথচ বরাদ্দ দেওয়ার মতো বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে মাত্র ৩৭টি।

  • আবেদন: ইতিমধ্যে ২১ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাসার জন্য আবেদন করেছেন।

  • বরাদ্দ: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরও এই তালিকায় রয়েছেন।

আবাসন পরিদপ্তর আশা করছে, মার্চের মধ্যেই মেরামত ও রংচংয়ের কাজ শেষ করে নতুন সরকারের সদস্যদের জন্য ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

For more information

আরো দেখুন