আওয়াজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সংঘর্ষ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে টহলরত সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুন্না রায় অভিযোগ করেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
মুন্না জানান, সোমবার (৮ জুলাই ২০২৫) অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা শেষে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে বাইকে করে তিনি নিজ বাড়ি নবীগঞ্জের আদিত্যপুরে ফিরছিলেন। সংঘর্ষের আতঙ্কে তিনি মূল সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথ হিসেবে চরগাঁও ব্রিজ হয়ে ফিরছিলেন।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে চরগাঁও এলাকায় সেনা ও পুলিশের টহল চলছিল। এক পর্যায়ে একটি টহল গাড়ি তার গতিরোধ করে। প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড দেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কিছু দূর যাওয়ার পর আরেকটি টহল দলের সদস্যরা তাকে আবার থামান এবং জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোর ‘বাড়ি কোথায়?’ তিনি জানান তার বাড়ি আদিত্যপুর এবং তিনি পরীক্ষা শেষে ফিরছেন। তখন এক সেনাসদস্য অভিযোগ করেন, ‘কালকে মাইরে ছিলি তুই!’ মুন্না বলেন ঘটনার দিন তিনি নবীগঞ্জে ছিলেন না, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সোনালী ব্যাংকে একটা কাজে গিয়েছিলেন, তারপরও এক পুলিশ সদস্য ও দুই সেনাসদস্য তাকে মারধর করেন।
মুন্না বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থী, পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন আর কোনো ছাত্রের সঙ্গে না ঘটে।’ মুন্নার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত।
এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে নিরীহ শিক্ষার্থীর ওপর এমন আচরণ দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
সচেতন মহল বলছে, এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়।
এ বিষয়ে জানতে বানিয়াচং সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর তানভীর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা একটি অস্থির সময় পার করছি। ঘটনাটি দুঃখজনক। আমি বিষয়টি শুনে সেনা ক্যাম্পের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি, ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর ঘটবে না।’
For more information
আরো দেখুন
SYLAWAZ24/05/SabbirMotion