অবশেষে বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষর করেছে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্বের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক সনদে স্বাক্ষর করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
কেন এই স্বাক্ষর: গত বছরের ১৭ অক্টোবর ২৫টি রাজনৈতিক দল এই সনদে স্বাক্ষর করলেও এনসিপি তখন বিরত ছিল। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “অক্টোবরে এই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে আমাদের মনে অস্পষ্টতা ছিল। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর আইনি বৈধতা নিশ্চিত করেছে। আমরা জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই আজ এই সনদে স্বাক্ষর করলাম।” তিনি আরও জানান, এই স্বাক্ষরের ফলে এনসিপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন সংসদ সদস্যের আইনি কর্তৃত্ব থাকবে এবং ভবিষ্যতে কেউ সংস্কারবিরোধী কাজ করলে তারা আইনি লড়াই চালাতে পারবেন।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ: এনসিপির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন, মনিরা শারমিন ও জহিরুল ইসলাম মুসা। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই স্বাক্ষরের ফলে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের চেতনার সাথে রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি আনুষ্ঠানিক সেতুবন্ধন তৈরি হলো। বিশেষ করে আগামীকাল নতুন সরকারের শপথের প্রাক্কালে এনসিপির এই অবস্থান সংস্কার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বৈধতা দান করবে।
For more information
আরো দেখুন