সম্প্রতি স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতৃত্ব বদলের প্রসঙ্গে আশরাফ বলেন, ‘বাবরের জায়গায় আফ্রিদি ও মাসুদকে অধিনায়ক বানানোয় দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সৃষ্টি হয়নি; বরং দল আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’ এমনকি মাসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তান টানা ৫ টেস্টে হারের (বাংলাদেশের বিপক্ষে ২টি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩টি) পরও তাঁকে অধিনায়ক বানানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে সাক্ষাৎকারে দাবি করেন আশরাফ।
তবে ‘কট বিহাইন্ড’ অনুষ্ঠানে রশিদ লতিফ দাবি করেছেন, বাবর সদিচ্ছায় নেতৃত্ব ছাড়েননি; আশরাফই তাঁকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন, ‘বাবরকে সরিয়ে মাসুদকে টেস্ট অধিনায়ক বানালেন কে? পাকিস্তান দলে ভাঙন ধরিয়েছেন কে? দেশের ক্রিকেটের সংকটকালে তিনি কী করছেন? শুধু সাক্ষাৎকার দিয়ে বেড়াচ্ছেন।’
দল গঠন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নয়, নির্বাচকদের বলে মনে করেন পাকিস্তানের হয়ে ৩৭টি টেস্ট ও ১৬৬টি ওয়ানডে খেলা লতিফ, ‘দল সাজানোর কাজ কার, জাকা আশরাফের নাকি মিসবাহ-উল-হকের (পিসিবির কারিগরি কমিটির প্রধান)? আশরাফই যদি সবকিছু করেন, নিজেই দল সাজিয়ে দেন, অধিনায়ক বানান, তাহলে (দল ব্যর্থ হলে) তিনি কাকে দায়ী করবেন—বাবর আজমকে? বাবরকে অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করতে তিনি জোরজবরদস্তি করেছেন। এর পর থেকেই দলীয় সংহতি নষ্ট হতে শুরু করেছে। আপনিই নিজ স্বার্থে শান মাসুদকে অধিনায়ক বানিয়েছিলেন। আর এখন আপনার দল পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।’
লতিফ আরও বলেছেন, ‘আপনি এমনভাবে বোর্ড গড়ে তুলেছেন যে যাবতীয় ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দিয়েছেন। অথচ তাঁরা ক্রিকেট সম্পর্কে কিছুই জানেন না।’
আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে পিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সবার নাম-পরিচয় ও পদবি তুলে ধরেন লতিফ। সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান ও তাদের ক্রিকেট বোর্ড। তাঁরা নাকি একেকজন কিংবদন্তি। অথচ তাঁরা ক্রিকেটের ধারেকাছেও নেই।’
পাকিস্তানের সামনে আরও বড় পরীক্ষা। আগামী অক্টোবরে নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা। বেন স্টোকস–জো রুটদের বিপক্ষেই ২০২২ সালে ৩–০ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান, যা দেশের মাটিতে তাদের প্রথমবার ধবলধোলাই হওয়ার ঘটনা।