টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট বিশ্বে যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে, তা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন স্বয়ং মুস্তাফিজ। আইপিএল থেকে বাদ পড়া, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জন এবং পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট—এতসব ঘটনার পরও মুস্তাফিজের নির্বিকার ভঙ্গি সবাইকে অবাক করেছে। বুধবার মিরপুরে জাতীয় দলের সহকারী কোচ এবং ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি’ টুর্নামেন্টে ধুমকেতু একাদশের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীন মুস্তাফিজের এই মনোভাবের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানান।
মুস্তাফিজের প্রতিক্রিয়া ও কোচের ভাষ্য: মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর সৃষ্ট বিশ্বজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ে কোচ সালাউদ্দীন নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন। জবাবে মুস্তাফিজ অত্যন্ত শান্তভাবে বলেছেন, “লেট ইট গো” (যা চলে যাওয়ার, তা চলে গেছে)। অর্থাৎ, যে বিষয়টি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে তিনি মোটেও বিচলিত বা হতাশ নন। কোচ সালাউদ্দীন মুস্তাফিজের এই মানসিকতাকে অন্যদের জন্য শিক্ষণীয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “৯ কোটি ২০ লাখ রুপির অফার চলে যাওয়ার পরও ও যেভাবে স্বাভাবিক আছে, তা অবিশ্বাস্য। ও জানে এটা ওর হাতে ছিল না। এই পেশাদারিত্ব অন্য ক্রিকেটারদেরও শেখা উচিত।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রভাব: এবারের আইপিএলে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির অজুহাতে বিসিসিআই-এর নির্দেশে তাঁকে বাদ দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে তাদের নির্ধারিত ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা দেয়, যা পুরো ক্রিকেট বিশ্বের হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে।
ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা: আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মেনে দেশটিকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় দুই বছরের প্রস্তুতি বৃথা গেছে ক্রিকেটারদের। সালাউদ্দীন মনে করেন, এই হতাশা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হলেও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বর্তমানে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খেলোয়াড়রা দ্রুত এই শোক কাটিয়ে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি’-তে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবেন।
For more information
আরো দেখুন