দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল যে গোল পরিশোধে মরিয়া থাকবে, সেটি জানাই ছিল। নেপাল পুরো শক্তি নিয়েই যেন ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। তবে এই সময় বাংলাদেশের রক্ষণ ছিল প্রথমার্ধের তুলনায় মজবুত। এক গোলে এগিয়ে থাকলেও শরীরী ভাষায় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি আশরাফুল হক, শাকিল আহাদ, আসাদুল ইসলামদের। রাব্বি ছিলেন বরাবরের মতোই দুর্দান্ত। তাঁর পায়ে বল গেলেই আতঙ্কে কেঁপেছে নেপালি রক্ষণ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ মারুফুল হক হেসেন ইফতিয়ারের জায়গায় চন্দন রায়, আসাদুল মোল্লার জায়গায় মইনুল ইসলামকে মাঠে নামান। ৫৫ মিনিটে আবারও খেলার ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এবার নেপাল দলের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সুযোগ নিয়ে দারুণ এক থ্রু থেকে প্রতি আক্রমণে উঠে ডান প্রান্ত থেকে আসাদুল রাকিবের ক্রস থেকে গোল করেন মিরাজুল। ২-০ গোলে এগিয়ে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা বাংলাদেশ ৭০ মিনিটে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। এটিও প্রতি আক্রমণে নিচ থেকে পাওয়া থ্রু ব্যবহার করে। মিরাজুল ডান প্রান্ত থেকে কাট ব্যাক করলে বক্সের ঠিক মাথায় বল ধরে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন রাব্বি।
৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি নেপালি দল। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। এই সময় খেলায় ফাউল-পাল্টা ফাউল হয়েছে যথেষ্টই। শারীরিক শক্তিতে কিছুটা এগিয়ে থাকার সুবিধাটা নেপাল নিতে চেয়েছে। তবে বাংলাদেশের রক্ষণ, বিশেষ করে গোলকিপার আসিফের কথা উল্লেখ করতেই হয়। প্রচণ্ড চাপের মুখে তারা ছিলেন অবিচল। ৮০ মিনিটে নেপাল গোল পেয়েও যায়।
সামির তামাংয়ের গোলটি কিছুটা হলেও উজ্জীবিত করে তাদের। দলটি আরও উজ্জীবিত হয় ১০ মিনিট যোগ করা সময় পেয়ে। তবে ৯৫ মিনিটে পিয়াস আহমেদের গোল জয়টা নিশ্চিতই করে ফেলে বাংলাদেশের। যদিও এই গোলটি নিয়ে নেপাল আপত্তি জানায়। পিয়াসের শটটি গোললাইন থেকে ফেরানো হয়েছে বলে দাবি নেপালিদের। যদিও রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত অটল থাকেন। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু রাব্বি পারেননি। শেষ পর্যন্ত নেপালি আক্রমণের স্রোত ঠেকিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এখন বাংলাদেশেরই।