আদালতে নিরাপত্তা শঙ্কা: অপ্রতুল সিসি ক্যামেরা
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিচার বিভাগে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করলেও, সিলেটের আদালত পাড়ায় সেবা নিতে আসা হাজারো মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো আদালত প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার অভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্যামেরা। বিশেষ করে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) এবং জেলা ও দায়রা জজ ভবনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্লোর ও পয়েন্টে কোনো সিসি ক্যামেরার তদারকি নেই।
মব সন্ত্রাস ও নাশকতার ঝুঁকি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে উদ্বেগজনক হারে ‘মব সন্ত্রাস’ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আদালত পাড়াও এর বাইরে নয়। আসামি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সাবেক বিচারপতি, আইনজীবি ও সেবাপ্রার্থীরাও মবের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। সিলেটের আদালত পাড়ায়ও আসামিদের আদালতে হাজির করা বা কারাগারে প্রেরণের সময় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা এখনো চিহ্নিত না হওয়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সর্বশেষ রাজশাহীতে বিচারকের বাসভবনে প্রবেশ করে তাঁর সন্তানকে হত্যা এবং সিলেটে শনিবার মধ্যরাতে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে এবং কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের একটি পরিত্যক্ত বাসে আগুন দেওয়ার মতো নাশকতার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
‘যারা নির্বাচন-নির্বাচন করেছিল, তারাই এখন ভণ্ডুল করতে চাইছে’: সিলেটে ৮ দলের সমাবেশে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের কঠোর হুঁশিয়ারি
কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি: ক্যামেরা অপ্রতুল, মেরামতের প্রক্রিয়া শুরু
আদালত কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিসি ক্যামেরার অপ্রতুলতা এবং নষ্ট থাকার বিষয়টি স্পষ্ট:
জেলা ও দায়রা জজ আদালত: নাজির মো. খাইরুল ইসলাম জানান, মোট ১১টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে ৫টি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। একটি মাত্র ক্যামেরা মাঠে স্থাপন করা হয়েছে, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে বিকল।
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত: নাজির মো. ফাইজুল ইসলাম জানান, তাঁদের নিজস্ব কোনো সিসি ক্যামেরা নেই এবং আদালত ভবনের কার্যকরী এলাকায় শুরু থেকেই কোনো ক্যামেরা ছিল না। গত ২৭ আগস্ট গণপূর্ত বিভাগের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশের তদারকি: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা পুলিশ এবং এসএমপির কোর্ট প্রসিকিউশানের অধীনেও সিসি ক্যামেরা রয়েছে, তবে মাঠ বা আদালত প্রাঙ্গণে কোনো ক্যামেরা নেই।
সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয় দেব বিশ্বাস জানান, নষ্ট ক্যামেরা মেরামত ও নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পত্র পেয়েছেন এবং দ্রুত কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এসএমপির মূখপাত্র মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “নষ্টগুলো মেরামতের প্রক্রিয়া চলছে। সবগুলো ঠিকঠাক থাকলে একটা আদালতকে নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে আনা সম্ভব।”
আইনজীবীদের দাবি: সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রথম ধাপ
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরওয়ার আহমেদ চৌধুরী আবদাল বলেন, “সিঁড়িসহ আদালতের প্রতিটি প্রবেশদ্বারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরী। গুরুত্বপূর্ণ সকল স্থানে সিসি ক্যামেরা বসালে অপরাধীরা অপরাধ করলে সহজে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যাবে।” পিপি অ্যাডভোকেট মো. আশিক উদ্দিন আশুকও দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
For more information
আরো দেখুন