সিলেট ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে পেট্রোল পাম্প কর্মচারীদের উপর ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি এবং অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান

News Room
প্রকাশিত মার্চ ১০, ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে পেট্রোল পাম্প কর্মচারীদের উপর ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি এবং অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ১০ মার্চ ২০২৬

সিলেট নগরীর চৌকিদেখী এলাকায় উত্তরা পেট্রোলিয়ামের এক সেলসম্যানের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে সিলেটে প্রতীকী ধর্মঘট ও অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

চৌকিদেখীতে রক্তক্ষয়ী হামলা

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় চৌকিদেখীস্থ উত্তরা পেট্রোলিয়ামে লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের অনুরোধ করায় একদল উশৃঙ্খল তরুণ পাম্পের সেলসম্যান মিঠু গোয়ালা (২২)-এর ওপর হামলা চালায়। এতে মিঠু গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের আরও কয়েকটি পাম্পে গত দুদিনে একই ধরণের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

কর্মসূচি ও প্রতীকী ধর্মঘট

শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সমিতি আজ ৯ মার্চ থেকে আগামীকাল ১০ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতীকী ধর্মঘট তথা কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বিপিসি (BPC) কর্তৃক আরোপিত ‘অযৌক্তিক’ দৈনিক কোটা পদ্ধতি বাতিল না করা পর্যন্ত সিলেটের পাম্প মালিকরা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখবেন।

বিপিসির কোটা পদ্ধতির সমালোচনা

সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিপিসির ‘উদ্ভট ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ কোটা পদ্ধতির কারণে সিলেটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে নেওয়া এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণেই গ্রাহকদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং শ্রমিকরা হামলার শিকার হচ্ছেন।

সমিতির ৫ দফা দাবি:

১. পাম্প শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা। ২. হামলাকারী বখাটেদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। ৩. বিপিসি আরোপিত অযৌক্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতি অবিলম্বে প্রত্যাহার। ৪. স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা পুনর্বহাল। ৫. সিলেট অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কোটা পদ্ধতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে।

For more information

আরো দেখুন