সিলেট মহাসমাবেশ: নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টার অভিযোগ করলেন জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান
‘নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা’ নিয়ে জামায়াত আমিরের কঠোর মন্তব্য
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, “যারা এতদিন নির্বাচন-নির্বাচন করে জনগণকে বেহুঁশ করে ফেলেছিল, তারাই এখন নির্বাচন ভণ্ডুল করার পায়তারা করছে।” শনিবার (৬ ডিসেম্বর) জামায়াতের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির শেষ দিনে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত ৮ দলের বিভাগীয় মহাসমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট পালালেও ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেশ থেকে হারিয়ে যায়নি। একদল ১৭ বছর এদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম রেখেছিল, এখন নতুন করে আরেকদল সেই ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।” শফিকুর রহমান যারা নানা বাঁকা পথে ক্ষমতায় যাবার প্রচেষ্টায় আছে, তাদেরকে উদ্দেশ করে বলেন, “বন্ধু, জনগণ তোমাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে।” তিনি দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, কোনো অপরাধী দলের সঙ্গী না হয়ে ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসার’ জন্য।
গণভোট ও জুলুমকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
ড. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, “যারা নতুন জুলুমকারী হয়ে উঠেছেন, তাদেরকে অচিরেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি বলেন, যে আকাঙ্ক্ষায় জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছে, ৮ দল সেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পূর্ণ একমত।
একই সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, গত ১৭ বছর দেশের ইসলামপন্থীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত সময় পার করেছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করার বিকল্প নেই। যারা না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে, তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। মামুনুল হক আরও অভিযোগ করেন, “আমাদের বিভাগীয় কর্মসূচি দেখে একটি দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা এখন নির্বাচন পেছানোর পায়তারা করছে।”
গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, সাত বিভাগীয় সমাবেশের পর এটা প্রমাণিত হয়েছে যে জনগণ তাঁদের পাঁচ দফার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, ফ্যাসিস্টদের বিচার আর সুষ্ঠু নির্বাচন ছিল গণআকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার কবর রচিত হয়েছে বলেই ৮ দল রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে। রেজাউল করীম বলেন, যারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি আর অপরাধে নিমজ্জিত, তাদেরকে আগামী নির্বাচনে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।
For more information
আরো দেখুন