সিলেট , ,

দি মারিয়ার যে রক্তের রং আকাশি-সাদা

News Room
প্রকাশিত September 6, 2024, 05:00 PM
দি মারিয়ার যে রক্তের রং আকাশি-সাদা

বল পায়ে তাঁকে দৌড়াতে দেখে প্রশ্নটি জেগেছে অনেকের মনেই, এই অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি সে পায় কোত্থেকে? একই সমস্যায় পড়েছিল তাঁর পরিবারও। ছোটবেলায় ছেলেটি হাঁটার আগেই যেন দৌড়াতে শিখেছিল! তিন বছর বয়সে বাসার মধ্যে যখন চলাফেরা করত, দৌড়ানো বলাই ভালো—আশপাশটা স্রেফ বিধ্বস্ত হয়ে যেত। কারণটা আপনার–আমার সবারই জানা। কিছু বাচ্চাই আছে এমন, যে বাসার মধ্যে যখন হাঁটবে, কীভাবে যেন ভাঙচুর করতে করতে সেটা দৌড়ানোয় রূপ নেয়! বাধ্য হয়েই ছেলেটির পরিবার তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। ভাগ্যিস, সেই চিকিৎসক বলেছিলেন, চঞ্চলতা কমাতে কিংবা কাজে লাগাতে চাইলে ফুটবল ধরিয়ে দিন।

 

নইলে আনহেল দি মারিয়াকে কি পেত এই বিশ্ব!

হ্যাঁ পেত; হয়তো অন্য কোনো পেশায়। কিন্তু পৃথিবীর আনাচকানাচ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা কোটি ভক্তের ‘অ্যাঞ্জেল’ কি হয়ে ওঠা হতো? আর্জেন্টাইনদের প্রিয় ‘এল ফিদেও’, কারও কারও চোখে আবার লিওনেল মেসির ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’—এসবের কোনো কিছুই হয়তো হয়ে ওঠা হতো না দি মারিয়ার। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আজ আর্জেন্টিনা ও চিলি ম্যাচ শুরুর আগে সেই চিকিৎসককে হয়তো মনে মনে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অনেকেই।

দি মারিয়ার অবশ্য তখন সেসব স্মৃতিচারণার ফুরসত ছিল না। ৩৬ বছর বয়সী এই ভদ্রলোককে যাঁরা চেনেন, ফুটবল মাঠে এত দিন দেখে এসেছেন—তাঁদের নিশ্চয়ই জানা আছে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে যেকোনো সংশ্লিষ্টতায় তিনি আবেগে ভেসে যান। গোল করে কিংবা শিরোপা জিতে তাঁর চোখ দুটো হয়ে ওঠে রোজারিওর বহতা নদী। মনুমেনন্তালেও তাই হলো।

 

স্টেডিয়ামের জায়ান্টস্ক্রিনে যখন তাঁর ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ের বিভিন্ন টুকরো দেখানো হচ্ছিল, গ্যালারিতেও অনেককে চোখ মুছতে দেখা গেল। দি মারিয়া তখন দুই কন্যা ও স্ত্রীকে শক্ত করে ধরে চোখের নদে বান ঠেকানোর চেষ্টায় মত্ত। কিন্তু পারলেন কোথায়! আবারও ব্যর্থ। তাঁর চোখের পাড় ভেঙে গড়িয়ে পড়েছে বিন্দু বিন্দু জল, কেউ কেউ বলেন, সেসব ফোঁটার রংও আকাশি–সাদা। দি মারিয়া এতটাই আর্জেন্টাইন!