সিলেট , ,

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: ৬ প্রশ্নের জবাব চেয়ে চিঠি

News Room
প্রকাশিত October 24, 2026, 11:06 PM
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: ৬ প্রশ্নের জবাব চেয়ে চিঠি

মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে, মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো এক কূটনৈতিক পত্রে এসব সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তোলা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। ওই বৈঠকেই এই কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি হিসেবে এই দণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে ছয়টি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হলো— ১. অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি কী ছিল এবং কবে ও কোথায় তা ঘটেছিল? ২. দুই নাগরিককে কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং শাস্তিদানের বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত রায়ের কপি প্রদান। ৩. মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে (প্রকাশ্যে তলোয়ারের আঘাতে শিরশ্ছেদ, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি)? ৪. মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুজনের মরদেহ বর্তমানে কোথায় আছে এবং তা কি বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি Arab-এই দাফন করা হয়েছে? ৫. তদন্ত ও বিচার চলাকালে দুই অপরাধীর পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না? ৬. দুজনের কেউ কি কনস্যুলার বা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন?

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে কারাবন্দী ও দণ্ডিত বাংলাদেশিদের তালিকা পাঠায়। গত সেপ্টেম্বরের পাঠানো তালিকায় এই দুজনের নাম থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তির তথ্য বা মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ ছিল না। ফলে বাংলাদেশ মিশন আগে থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য না থাকায় কোনো কনস্যুলার বা আইনি সুরক্ষা দিতে পারেনি। বর্তমানে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

For more information

আরো দেখুন