২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার রাজপথে তীব্র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচি থেকে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে সরাসরি বিদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের গলায় ছুরি বসিয়েছে; আর যারা জনগণের গলায় ছুরি চালায়, তাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
সোমবার রাতে ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। বাংলামোটর মোড়ে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশ্ববাজারের সংকটের কথা বলা হলেও তা মোকাবিলার ন্যূনতম সক্ষমতা এই সরকারের নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জ্বালানিসংকট সমাধান ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিরোধী জোট নয়, নিজেদের পেটে লাথি পড়ার ক্ষোভে সাধারণ জনগণই রাজপথে নেমে এই ব্যর্থ সরকারকে ধাওয়া দেবে।
বাংলামোটরের সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরীবাগ এলাকার ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর্যের’ সামনে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ, যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট চলছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যদি অবিলম্বে জনবিরোধী এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে আগামীতে কেবল প্রতিবাদ নয়, রাজপথে সরকার প্রতিরোধের সর্বাত্মক ডাক দেওয়া হবে।