সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ শহরের ব্যবসায়িক এলাকার এক শতাংশ জায়গার ষাট ভাগ ভূমিতে একটি পাঁচতলা ভবন। প্রয়াত একজন প্রবাসী ভবনটির মালিক। ভবনটিতে বিভিন্ন দোকানকোঠা ভাড়া পরিচালনা করছিলেন একজন কেয়ারটেকার।
কেয়ারটেকার মারা যাওয়ার পর ভাড়া আদায় অনিয়মিত হয়ে পড়ে। মালিক পক্ষ খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন কেয়াটেকারের উত্তারাধিকাররা জাল দলিল করে ভবনটির মালিক সেজে বসে আছেন। তারা ভবনটি প্রভাবশালী একটি মহলের কাছে বিক্রির পায়তারা করায় এ ঘটনায় মালিক পক্ষ আদালতে মামলা করেছেন।
আইনজীবী মতিয়া বেগম বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে সম্প্রতি মামলা করেছেন। মতিয়া ভবনটির মূল মালিক নুরুল ইসলামের বড় সন্তান। মামলা বিবরণে বলা হয়, প্রয়াত নূরুল ইসলাম একজন প্রবাসী লোক ছিলেন। তিনি প্রবাসী আয় থেকে ১৯৯১ সালের ৩ নভেম্বর ৭৬১৭/১৯ নম্বর রেজি. দলিল মূলে রেকর্ডিয় মালিক কোকিল চন্দ্র রায়ের নিকট থেকে ভবনটি ক্রয় করেন (জে.এল নং ১৪৪, দাগ নং ৭১, মৌজা তেঘরিয়া, মিউনিসিপ্যালিটি সুনামগঞ্জ। ১৭২৮/১ নং খতিয়ানের ৭১ নং দাগের ০.০০৬০ এক শতাংশের একশত ভাগের ষাট ভাগ দোকান রকম ভূমি)।
মামলা বিবরণ থেকে আরও জানা যায়, বাদীর বাবা নুরুল ইসলাম প্রবাসে থাকার সুবাদে কেয়াটেকার হিসেবে তাদের সকল সহায় সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন সাহাব উদ্দিন। ২০১৯ সালে সাহাব উদ্দিন মারা যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ভবনটির বিভিন্ন দোকানকোঠার ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করেছেন। ২০১৯ সালের পর কেয়ারটেকারের পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা প্রতি মাসে ভাড়া মৌখিক সাব্যস্ত হয়। তারা নিয়মিত ভাড়া আদায় করে আসছিলেন। গত প্রায় এক বছর ধরে ভাড়া বকেয়া থাকায় আইনজীবী মতিয়া বেগম ভাড়া আদায় করতে গিয়ে কেয়ারটেকারের পরিবারের মালিকানা দাবির বিষয়ে অবহিত হন। এ সময় তিনি দলিলটির নম্বর চাইতে গেলে তারা তাকে অস্বীকৃতি জানায়।
এ অবস্থায় মতিয়া মামলা করতে বাধ্য হন। মামলাটি (নম্বর : সিআর ৬১৮/ ২৪) আদালত গ্রহণ করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পরবতী তারিখ ধায্য করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ভবটির কেয়ারটেকার সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার মনি, মেয়ে ফারজানা খানম পিংকি, জামাতা রেদোয়ান আহমদ বাপ্পি এবং দুজন ভাড়াটিয়া নিখিল পাল ও রতন।
কেয়ারটেকার থেকে ভবনটির মালিক হওয়ার বিষয়ে রেদোয়ান আহমদ বাপ্পি দাবি করেন, উত্তরাধিকার সূত্রে তার শাশুড়ি (ফাতেমা আক্তার মনি) ও স্ত্রী (ফারজানা খানম পিংকি) ভবনটির বর্তমান মালিক। তিনি বলেন, ভবনটির জায়গা আমার শ্বশুরের নামে ক্রয়কৃত। আইনজীবী মতিয়া বেগমের বাবা জায়গা বিক্রি করেছেন। জায়গার রেজিস্ট্রিকৃত দলিলও রয়েছে। আগে আমার শ্বশুরের (সাহাব উদ্দিন) নামে নামজারি ছিল। বর্তমানে আমার শাশুড়ি (ফাতেমা আক্তার মনি) ও আমার স্ত্রীর (ফারজানা খানম পিংকি) নামে নামজারি করা আছে।
কেয়ারটেকারের উত্তরাধিকার পক্ষ থেকে এসব দাবি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্রেখ করে মামলার বাদী আইনজীবী মতিয়া বেগম বলেন, ‘কেয়ারটেকার মারা যাওয়ার পর এ রকম দাবি করায় আমি দলিলাদি দেখতে চেয়েছিলাম। এমনকি দলিল নম্বরও চেয়েছিলাম। তারা এসব কিছু দেখাতে পারেননি। এতে করে আমার ধারণা, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে মালিক সেজেছেন তারা।শহরের একটি প্রভাবশালী মহলের কাছে গোপনে বিক্রি কারার চেষ্টার বিষয়টি জেনে আদালতের কাছ থেকে ফয়সালা পেতে মামলা দায়ের করেছি।
For more information
আরো দেখুন|