সিলেট ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

৩ দিন পর সিলেটের পাথর লুটেরাদের ভাগ্যে কী আছে?

News Room
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২৫, ০২:০৮ অপরাহ্ণ
৩ দিন পর সিলেটের পাথর লুটেরাদের ভাগ্যে কী আছে?

সিলেটে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসন তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৬ আগস্ট (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৫টার মধ্যে লুট হওয়া সব পাথর নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কারও কাছে সাদা পাথর পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এমনকি নির্ধারিত সময়ের পর যে এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাথর উদ্ধার হবে, সেই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায় তিন দিনের আলটিমেটামের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পদ্মসন সিংহ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম জানান, সিলেট সদর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এখনো অনেকের কাছে সাদা পাথর লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এসব পাথর উদ্ধারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা সরকারের অংশ হওয়ায় এ কাজে তাদেরও দায় রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই উপজেলায় মাইকিং করে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া কোয়ারীতে রাখা জব্দকৃত পাথরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌযান সরানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। শনিবার (২৩ আগস্ট) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফরহাদ উদ্দীন অভি অভিযান চালিয়ে পাথর ব্যবসায়ী, নৌযান মালিক এবং স্থানীয়দের সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পাথর পরিবহন বা অবৈধ উত্তোলনের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া সাদাপাথর লুটের ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–বিজিবি সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিজিবি সদর দপ্তর। বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখলেছুর রহমান বলেছিলেন, সাদাপাথর লুটের ঘটনায় বিজিবি কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না এবং লুটে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় টাস্কফোর্সের অভিযানে বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ করা হয়েছে। গোয়াইনঘাটের পিয়াইন নদীতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক ও দুটি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয়। জৈন্তাপুরে শনিবার ১৪ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়, যার মধ্যে শ্রীপুর চা বাগান এলাকায় লুকিয়ে রাখা ১২ হাজার ঘনফুট পাথরও রয়েছে। এসব পাথর পুনরায় নদীতে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তিন দিনের সময়সীমা শেষে যাদের কাছে সাদা পাথর পাওয়া যাবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আলটিমেটামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সিলেটের পাথর লুটেরাদের কী শাস্তি অপেক্ষা করছে, আর এই ৩ দিন সময়ের মধ্যে কেউ নিজ উদ্যোগে পাথর ফেরত দিবে কিনা এই প্রশ্ন সিলেটবাসীর।

For more information

আরো দেখুন