সিলেট , ,

২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ গ্যাস কূপের লক্ষ্য: ৩২টি প্রস্তুত, সিলেটে তোড়জোড়

News Room
প্রকাশিত September 29, 2026, 09:57 PM
২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ গ্যাস কূপের লক্ষ্য: ৩২টি প্রস্তুত, সিলেটে তোড়জোড়

ছবি : এ আই দিয়ে তৈরি প্রতীকী আঞ্চলিক খবর

অর্থনীতি ও জ্বালানি ডেস্ক | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলমান তীব্র জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে স্থলভাগে ১৫০টি কূপ খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৩২টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে; যা জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের জন্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই ৩২টি প্রস্তুত কূপের মধ্যে ১৬টির ড্রিলিং (অনুসন্ধান ও উন্নয়ন) এবং বাকি ১৬টির সংস্কার বা ওয়ার্কওভার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে আরও ৬টি কূপে পুরোদমে খননকাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন ১৭টি কূপের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে এবং আরও ১৭টি কূপের ডিপিপি বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনাধীন পর্যায়ে রয়েছে।

প্রস্তুত হওয়া ৩২টি কূপের মধ্যে বড় একটি অংশই পুণ্যভূমি সিলেট অঞ্চলের। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) আওতাধীন ১৪টি কূপের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিয়ানীবাজার-১ (ওয়ার্কওভার), গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা-২ (ওয়ার্কওভার), রশিদপুর-২ (ওয়ার্কওভার), কৈলাশটিলা-৮ (অনুসন্ধান), সিলেট-৭ (ওয়ার্কওভার), সিলেট-১০ (অনুসন্ধান), রশিদপুর-৫ (ওয়ার্কওভার), কৈলাশটিলা-৭ (ওয়ার্কওভার), রশিদপুর-৩ (ওয়ার্কওভার), কৈলাশটিলা-১ (ওয়ার্কওভার), বিয়ানীবাজার-২ (ওয়ার্কওভার), রশিদপুর-১১ (অনুসন্ধান), সিলেট-১১ (উন্নয়ন) এবং সিলেট-১০ এক্স (অনুসন্ধান)। একই সময়ে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) অধীনে ৭টি কূপের খনন ও সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে, যার মধ্যে হবিগঞ্জ-৫ (ওয়ার্কওভার) অন্যতম। বর্তমানে যে ৬টি কূপে সক্রিয় খননকাজ চলমান রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের রশিদপুর-৩ অনুসন্ধান কূপ। ডিপিপি অনুমোদিত কূপের তালিকায় রয়েছে সিলেটের ডুপিটিলা-১, কৈলাশটিলা-৯, সিলেট-১২ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপ। অন্যদিকে বিয়ানীবাজার-৩, কৈলাশটিলা-১০, জকিগঞ্জ-২ (উন্নয়ন) ও জকিগঞ্জ-৩ অনুসন্ধান কূপের ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নতুন গ্যাসস্তর শনাক্তকরণে সাইসমিক জরিপের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিজিএফসিএলের মাধ্যমে হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনার ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এবং তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদীসংলগ্ন ৬৩২ বর্গকিলোমিটারে ৩ডি সাইসমিক ডেটা আহরণের কাজ চলছে। বাপেক্সের মাধ্যমে ছাতক-দোয়ারাবাজার ও জামালপুরে ৮৬০ বর্গকিলোমিটার এবং এসজিএফএল-এর অধীনে লাইয়াগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা সাউথ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচারে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরুল ইমামের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সংকট কাটাতে হলে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খনন কার্যক্রমে গতি ও পেশাদারত্ব আরও বাড়াতে হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ১০০ বছরের ইতিহাসে মাত্র ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ২০টি ক্ষেত্র। ১৯৯৭ সালের পর স্থলভাগে কোনো আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান না করায় দেশীয় উৎসের বিকাশ ব্যাহত হয়েছিল, যা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

For more information

আরো দেখুন