বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ সিলেটের একটি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ নিয়ে শুরু হয়েছে লড়াই। এতে জড়িয়ে পড়ছেন ঐ ইউনিয়নের সব ইউপি সদস্যসহ সচেতন মহলও এবিষয় নিয়ে জনমনে চলছে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক।
ইউনিয়নটির নাম মাথিউরা। সম্প্রতি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপরই জমে উঠে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চেয়ার নিয়ে টানাটানি, বিভ্রান্তি ও বিতর্ক।
জানা গেছে, মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর প্রথম সভাতেই প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। তখন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নির্বাচিত হন ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য আলতাফ হোসেন। আর প্যানেল চেয়ারম্যান-২ নির্বাচিত হন ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য ফয়জুল হক নজমুল।
স্বাভাবিকভাবেই আমান উদ্দিন বরখাস্ত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার কথা আলতাফ হোসেনের। তবে এ নিয়ে ইউপি সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় বিরোধ। মোটামুটি দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন তারা সবাই।
এই বিরোধ চলতে থাকলে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ইউপি সচিব তাজ উদ্দিন সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর আবারও সদস্যদের মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৩ মহিলা সদস্যসহ ১২ জন সদস্য।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আলতাফ হোসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে আবারও উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মৌখিক ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এবারও আলতাফের পক্ষে ভোট পড়ে ৬টি। বিপরীতে ফয়জুল হক নজমুলের পক্ষে ভোট দেন মোট ৫জন সদস্য। একজন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
এরপরই প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে রেজ্যুলেশন করে তা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান ইউপি সচিব তাজ উদ্দিন। তবে তাকে না পওয়ায় তার কার্যালয়ে সেই রেজ্যুলেশন জমা দিয়ে ফিরে আসেন।
এদিকে ফেসবুকে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করে একটি স্ট্যাটাস দেন আলতাফ হোসেন। এ পর্যায়ে বিতর্ক আরও জমে উঠে। বিভিন্নজন তাকে অস্বীকার করে নানা আজেবাজে মন্তব্য করতে থাকেন। কেউ কেউ অবশ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এদিকে আলতাফ হোসেনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবির বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদও হয় সিলেটের একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে। বিতর্ক আরও জমে উঠে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা মুন্না বলেন, আমি ঢাকায় একটা ট্রেনিংয়ে আছি। ফিরে এসে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জেলা প্রশাসকের দফতরে পাঠাবো। তারপর অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জানতে চাইলে আলতাফ হোসেন বলেন, প্রথম সভাতেই আমাকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নির্বাচন করা হয়। আর ফয়জুল হক নজমুল হন প্যানেল চেয়ারম্যান-২। এখন তিনি ও তার পক্ষের লোকজন আগের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিজেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে চান। বিতর্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এখান থেকেই।
তার ফেসবুক স্ট্যাটাস সম্পর্কে তিনি বলেন, মঙ্গলবার আবারও মৌখিক ভোটে আমার পক্ষে ৬জন ও নজমুল মেম্বারের পক্ষে ৫জন ভোট দিলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে রেজ্যুলেশন করা হয়। এরপরই আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই।
এদিকে ইউপি সদস্য ফয়জুল হক নজমুলের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। মঙ্গলবারের সভা ও রেজ্যুলেশনের বিষয়টি সিলেটভিউকে নিশ্চিত করেছেন মাথিউরা ইউনিয়ের সচিব মো. তাজ উদ্দিন।
For more information
আরো দেখুন