সিলেট ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার: ২ ভিকটিম উদ্ধার

News Room
প্রকাশিত মার্চ ৯, ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার: ২ ভিকটিম উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ১০ মার্চ ২০২৬

সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) রাতে নগরীর তাঁতিপাড়া এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অপহৃত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং অপহরণে ব্যবহৃত চাকু, কাঁচি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

যেভাবে চলত চক্রের কার্যক্রম

পুলিশ জানায়, গত রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা সুহেল সরকারকে (২২) তাঁতিপাড়া পয়েন্ট থেকে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক অপহরণ করে। তাঁকে তাঁতিপাড়ার ‘নাজমা নিবাস’ নামের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং লোহার রড দিয়ে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয় চক্রটি।

পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

ভুক্তভোগী সুহেল সরকার বিষয়টি পুলিশকে জানালে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ‘নাজমা নিবাস’-এ অভিযান চালায়।

অভিযানকালে পুলিশ ওই বাসা থেকে অপহরণ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন— তানজিম মাহবুব নিশান (২১), আহসান হাবিব মুন্না (১৯), জুবাইন আহমদ (১৯), সুফিয়ান আহমদ (১৯), জাকির হোসেন (১৯), মারজান (১৯), মোসাদ্দেক আলী (১৮), ফারদিন আহমদ (১৮), জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) ও মিজান আহমদ (১৮)।

প্রবাসী ভিকটিম উদ্ধার

অভিযান চলাকালে ওই গোপন আস্তানা থেকে জাহিদ আহমদ (৪২) নামের আরেক অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার বাসিন্দা এবং একজন প্রবাসী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ভিকটিমদের ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা

কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং নগরীর অন্য কোথাও তাঁদের আস্তানা আছে কিনা, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

For more information

আরো দেখুন