সিলেট ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেট নগরীর ফুটপাতে ফিরে এল বিশৃঙ্খলা: অভিযান শেষে হকারদের পুনর্দখল, ব্যর্থ প্রশাসন?

News Room
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২৫, ০৪:৫০ অপরাহ্ণ
সিলেট নগরীর ফুটপাতে ফিরে এল বিশৃঙ্খলা: অভিযান শেষে হকারদের পুনর্দখল, ব্যর্থ প্রশাসন?

নগরীর বিশৃঙ্খলা: হকার ও অবৈধ পার্কিংয়ের দাপট

 

সিলেট নগরীর সড়ক ও ফুটপাতের অবস্থা যেন আবারও ‘যেই লাউ সেই কদু’ পর্যায়ে ফিরে এসেছে। প্রশাসন, পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের পরও অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হকার ও ব্যবসায়ীরা মরিয়া হয়ে ফুটপাতগুলো পুনর্দখল করে নিচ্ছেন। নগরীর বিশৃঙ্খলার প্রধান দুটি কারণ—ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) যত্রতত্র পণ্যের পসরা সাজানো এবং অবৈধ গাড়ি পার্কিং—বছরের পর বছর ধরে চলছে এবং এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর প্রধান সড়ক, বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, সোবহানীঘাট, তালতলা, রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হকার ভ্যান-ট্রলি নিয়ে দেদারসে ব্যবসা করছেন। হোটেল ব্যবসায়ীরা ফুটপাতে টেবিল ও জিনিসপত্র রেখে দখল করে রাখছেন, ফলে পথচারীদের যাতায়াতে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।


প্রশাসনের উদ্যোগ ভেস্তে, ব্যর্থতার কারণ চাঁদাবাজি?

 

এর আগে সিলেট জেলা প্রশাসন, পুলিশ কমিশনার এবং সিসিক যৌথভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করা হলেও, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের তদারকিতে ভাটা পড়ায় নগরীর রাস্তাঘাট ফের হকারদের দখলে চলে গেছে। লালদিঘীরপাড়ে হকারদের জন্য একটি অস্থায়ী মার্কেট তৈরি করা হলেও, হকাররা সেখানে না গিয়ে রাস্তায় বসেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নগরীর সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ‘একদিন কড়া, পরদিন ঢিলা’—এই নীতির কারণেই হকাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অনেকে অভিযোগ করছেন, পুলিশ ও সিসিকের লাইনম্যানদের চাঁদাবাজি এবং দুর্বল তদারকির কারণেই হকারদের এই দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।


কর্তৃপক্ষের কঠোর হুঁশিয়ারি

 

এই পরিস্থিতি নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন আবার কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে:

  • সিসিকের বার্তা: সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানান, “অভিযান সাময়িক বন্ধ ছিল, তবে খুব দ্রুতই আবার শুরু হবে এবং এইবার কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। লালদিঘীরপাড় হকার্স মার্কেট এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যেখানে ২-৩ হাজার হকার সহজেই ব্যবসা করতে পারবেন। এরপরেও কেউ রাস্তায় বসতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • এসএমপি’র হুঁশিয়ারি: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যান্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের অভিযান বন্ধ ছিল। তবে শীঘ্রই আবার নগরীজুড়ে অভিযান শুরু হবে। যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, এবার আর কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হবে না। পুনরায় ফুটপাতে বসলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

  • জেলা প্রশাসকের অবস্থান: সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “হকার উচ্ছেদে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। এতদিন আমরা সহনশীলতা দেখিয়েছি, কিন্তু হকাররা এখনো রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নগরবাসী এখন এই তিন সংস্থার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

For more information

আরো দেখুন