সিলেটের জৈন্তাপুরে সরকারের ইজারাকৃত বড়গাং বালুমহালে বারকি শ্রমিকদের বালু উত্তোলনে বাধা প্রদান, নৌকা প্রতি ১ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দেওয়ায় এক শ্রমিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে বালু উত্তোলন সাময়িক বন্ধ রেখেছেন সাধারণ বারকি শ্রমিকরা।
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বৃহত্তর জৈন্তাপুর উপজেলা নৌকা ও বারকি শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুস ছামাদ জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বারকি শ্রমিকরা রূপচেং এলাকার বড়গাং নদীর লিজকৃত বালুমহাল থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্র শ্রমিকদের কাছে নৌকা প্রতি এক হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিল। শ্রমিকরা এই অন্যায় চাঁদা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাজ বন্ধের হুমকি ও দফায় দফায় হয়রানি করা হয়।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জামাল আহমদ, তাজুল ইসলাম, শাহিন আহমদ, হেলাল ও রহিম উদ্দিন (বলাই)-সহ ৯-১০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রূপচেং এলাকার বালুমহালে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বালুবাহী নৌকার গতি রোধ করে চাঁদার টাকা দাবি করে। শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে টাবুল বিশ্বাস নামে এক বারকি শ্রমিক গুরুতর রক্তাক্ত আহত হন। পরে স্থানীয় শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান।
খবর পেয়ে ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস ছামাদসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং এলাকা ছেড়ে না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় শ্রমিক নেতারা নিরাপদে ফিরে আসেন।
বড়গাং নদীর বৈধ ইজারাদার সিদ্দিক আহমেদ অভিযোগ করে জানান, “সরকারের রাজস্ব পরিশোধ করে বিধি মোতাবেক নদীটি ইজারা নিয়েছি। কিন্তু স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল বৈধ কার্যক্রম ব্যাহত করতে সাধারণ বারকি শ্রমিকদের জিম্মি করে নৌকা প্রতি চাঁদা দাবি করছে। এতে সাধারণ দিনমজুরদের রুটি-রুজি হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, শ্রমিকদের ওপর হামলা ও চাঁদা দাবির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি তদন্তে কাজ শুরু করেছে; ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
For more information
আরো দেখুন