আওয়াজ ডেস্ক: নিখোঁজের আটদিন পর সিলেটের কানাইঘাটে অপহৃত শিশু মুনতাহা মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির পাশে। হত্যার পর বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ডোবা থেকে লাশ সরানোর সময় প্রতিবেশী নারীকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।
মুনতাহা নিখোঁজের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি শেয়ার করে অনেকেই সন্ধান চেয়েছেন। সেই কাতারে ছিলেন শোবিজ অঙ্গনের বড় বড় তারকারাও। তার মৃত্যুর খবরে সবাই হতভম্ব। অনেকেই তার ছবিটি শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতির কথা লিখছেন।
মডেল ও অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ মুনতাহা একটি ছবি শেয়ার করে তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সকাল সকাল কাঁদলাম। আল্লাহ্ তুমি দুনিয়াতেই তার বিচার করো যে এই ফেরেশতার জীবন নিয়ে গেছে তার যেন কবর না হয়।’
অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী রোববার (১০ নভেম্বর) মুনতাহার একটি ছবি ও অভিযুক্ত তিন খুনির ছবি শেয়ার করে তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, এদেরকে কি মানুষ বলা যায়? এতটুকু শিশুকে যারা খুন করে তাদের কীভাবে মানুষ বলি! তাহলে তারা আসলে কী! একজন নারী, যিনি একজন মা, সে কীভাবে এত নিষ্ঠুর হয়।
তিনি আরও লেখেন, আহা ফুটফুটে মুনতাহা, এমন গোলাপ কলি ফুটতে দিল না দৈত্যের দল। বেহেশতি ফুল তুমি সেখানেই ফুটে থেকো। তবে দুনিয়াতে তুমি তোমার বাবা মায়ের কাছে যে দোজখের আগুন ফেলে গেলে সে আগুন কোন শান্ত্বনায় নিভবে জানি না। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দিন।
এ অভিনেত্রী আরও লেখেন, এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। গায়ের জোড়ে, নিজের জিদ তেজ প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে যারা মানুষ খুন করে বা করতে চায় তারা মানসিক বিকারগ্রস্ত। তারা হিংস্র। হিংস্র প্রাণী যেমন লোকালয়ে রাখা যায় না, তাদের হয় জঙ্গলে অথবা লোহার সিকের বেষ্টনীতে রাখা হয়, এই মানুষদেরও আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রদান করে আটকে রাখা উচিত। মাথাটা আউলা লাগছে, এই নিউজটা নেওয়া যাচ্ছে না।
মুনতাহা কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদলের ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে। গত ৩ নভেম্বর সকালে নিখোঁজ হয় সে।
নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর, ভোররাতে প্রতিবেশী আলিফজান বিবি, লাশ ডোবা থেকে পুকুরে ফেলার সময় হাতেনাতে আটক করা হয় তাকে। এ ঘটনায় হতবাক এলাকার মানুষ। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আগুন দিয়েছে ঘাতক পরিবারের বাসায়।
পুলিশ জানায়, ৩ নভেম্বর রাতেই মুনতাহা কে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর ডোবায় ফেলে রাখা হয়। মারজিয়াকে শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে আটক চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী বলে জানায় পুলিশ। এর মধ্যে একজন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড করা হয়েছে। আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে এটি একটি কারণ। আরোও কারণ থাকতে পারে, সেটি আমরা তদন্ত করছি। আর কারো সম্পৃক্ততার আছে কি না জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসবে।
For more information
আরো দেখুন|