সিলেট ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি জুলাইকে অবজ্ঞা করেছে: ডা. শফিকুর রহমান

News Room
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ণ
সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি জুলাইকে অবজ্ঞা করেছে: ডা. শফিকুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আজ শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তবে বিএনপি কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এর মাধ্যমে বিএনপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করেছে।

বিএনপির শপথ ও জামায়াতের অবস্থান: মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনের কাছে শপথ নেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা দুটি পৃথক শপথ (সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য) গ্রহণ করেন।

সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা মনে করি, সরকারি দল সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাইয়ের শহীদি আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে। ছাব্বিশের এই নির্বাচন হয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে। গণভোটে দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে যে রায় দিয়েছে, সেই রায়কে সম্মান জানানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।”

নাহিদ ইসলামের ক্ষোভ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপির এই পদক্ষেপকে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “সরকার গঠনের প্রথম দিনই যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল, তাদের কাছে জাতি কী আশা করবে? জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পর এই ব্যাখ্যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি আইনি সংকট তৈরি করবে।”

সুবিধা বর্জন ও সহিংসতার প্রতিবাদ: ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় ঘোষণা করেন যে, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা সরকারি প্লট এবং ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ির সুবিধা নেবেন না। একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, ১১-দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ায় সারা দেশে সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এই হামলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে তারা রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

খলিলুর রহমানকে মন্ত্রী করা নিয়ে প্রশ্ন: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করার সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য’ (Not Fair) বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমীর। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ থাকা ব্যক্তিরা সরাসরি রাজনৈতিক সরকারের অংশ হওয়া তাঁদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

For more information

আরো দেখুন