উপদেষ্টা ফাহিম চৌধুরীর ‘বিতর্কিত’ ফেসবুক পোস্ট
সিলেটে চলমান বিপিএলের ১২তম আসরের মাঝপথেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম চৌধুরী তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের ‘ভিউ ব্যবসায়ী’ হিসেবে সম্বোধন করেন।
ফাহিম চৌধুরী তাঁর পোস্টে লেখেন:
“অন্তত আমি তো কিছু ভিউ ব্যবসায়ীকে দু’মুঠো ভাত জোটানোর সুযোগ করে দিয়েছি! ওদের একটাই চাকরি, নেগেটিভ কথা ছড়িয়ে ভিউ কামানো, কারণ পজিটিভ করলে তো পেটই চলবে না! নেগেটিভ ভিউ হোক আর পজিটিভ কাজ হোক, পেট যেন ভরা থাকে!☺️”
সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদ ও বয়কট
ফাহিম চৌধুরীর এমন মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং সিলেটে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাঁর এই ‘দৃষ্টিকটু’ ও অপমানজনক বক্তব্যের প্রতিবাদে সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট টাইটান্সের আজকের ম্যাচ ও সকল কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দেন।
সিলেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, ফাহিম চৌধুরীর এই বক্তব্য পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য অবমাননাকর। প্রতিবাদস্বরূপ তাঁরা সিলেট টাইটান্সের ম্যাচ, প্র্যাকটিস সেশন এবং কোনো সংবাদ সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
আন্দোলনরত সাংবাদিকরা ফাহিম চৌধুরীর প্রতি দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন: ১. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে প্রকাশ্য গণমাধ্যমে ক্ষমা চাইতে হবে। ২. তাঁর ফেসবুক পেজ থেকে আপত্তিকর ওই পোস্টটি অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে।
সাংবাদিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই সময়ের মধ্যে ফাহিম চৌধুরী ক্ষমা না চান, তবে বিপিএলে সিলেট টাইটান্সের পরবর্তী সকল ম্যাচ, প্র্যাকটিস এবং প্রেস কনফারেন্স স্থায়ীভাবে বয়কট করা হবে।
.gif)
অচলাবস্থার মুখে সিলেট টাইটান্স
বিপিএলের মতো একটি বড় আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির শীর্ষ পদের একজন ব্যক্তির এমন অপেশাদার আচরণে বিব্রত আয়োজকরাও। সাংবাদিকদের বয়কটের ফলে সিলেট টাইটান্সের প্রচার ও সংবাদ প্রচার নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বা ফাহিম চৌধুরী এই সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ নেন।
For more information
আরো দেখুন