২০২১ সালে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে, পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনাও অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে। পাকিস্তানের এই দুই রাজ্যই আফগান সীমান্তে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটিতে ৬৫০টির বেশি ‘জঙ্গি’ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাগুলোর ২৩ শতাংশই হয়েছে বেলুচিস্তানে, নিহত হয়েছেন ২৮৬ জন।
বেলুচিস্তানে ধারাবাহিক হামলার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন কোয়েটাভিত্তিক বিশ্লেষক মুহাম্মদ আরিফ। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘বেলুচিস্তান অনেক বড় এলাকা, সেখানে লোকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করে। এটা সরকার ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন—উভয়ের জন্যই একাধারে ভালো ও মন্দ। সেখানে সরকার যেমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তেমনি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোও কার্যকরভাবে এত বড় এলাকার নিয়ন্ত্রণ দাবি করতে পারছে না।’
জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও জননিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তান সরকার বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করেন মুহাম্মদ আরিফ।
আরিফ বলেন, ‘এ ধরনের হামলা বাড়ছে এবং এগুলো প্রতিরোধ করতে সরকারকে রীতিমতো লড়াই করতে হয়। এতে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়, তাতে স্থানীয় লোকজন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দিকে আরও বেশি ঝুঁকে যাবেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।’
যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত হবে না বলে মনে করেন বেলুচিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক। বলেন, ‘আমার মতে, আরও বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগে সরকারের উচিত, বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই রক্তপাত এখানকার মানুষকে গ্রাস করে ফেলবে। তাঁদের অবশ্যই এটা বোঝাতে হবে, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে কেউ লাভবান হতে পারে না।’