সিলেট ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানে বিক্ষোভে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: ‘দাঙ্গাকারীদের’ কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি

News Room
প্রকাশিত জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ
ইরানে বিক্ষোভে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: ‘দাঙ্গাকারীদের’ কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি

ইন্টারনেট বিভ্রাট ও সাইবার হামলার দাবি

ইরানে গত বৃহস্পতিবার থেকে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরানে গড় ইন্টারনেট ট্রাফিক প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে

ইরানের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি দাবি করেছেন, দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এই হামলা প্রতিহত করার কারণেই ব্যান্ডউইডথ সীমিত হয়ে পড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভ দমনে তথ্য আদান-প্রদান বাধাগ্রস্ত করতেই এই ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সহিংসতা ও প্রাণহানি

তেহরানের কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

  • হামেদান: এক তরুণ ব্যবসায়ী ‘সন্দেহজনক’ ভাবে নিহত হয়েছেন।

  • কোম: ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

  • ইলাম: সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক প্রবীণ সদস্য নিহত হয়েছেন।

খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের প্রভাব

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলমান এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি ‘বিদেশি প্রভাব’ ও ‘শত্রুপক্ষকে’ দায়ী করেছেন। এক ভাষণে তিনি বলেন, “দাঙ্গাকারীদের অবশ্যই উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে।” এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতি মার্কিন সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে একে ‘নির্দলজ্জ ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ও তথাকথিত ‘স্বীকারোক্তি’

আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে লরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদ থেকে বিক্ষোভের তিন প্রধান নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বেশ কয়েকজন নাগরিকের ‘স্বীকারোক্তি’ প্রচার করা হয়েছে, যেখানে তাদের সশস্ত্র বিদ্রোহী এবং বিদেশি এজেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সারসংক্ষেপ: অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও জনগণের ক্ষোভ কতটুকু প্রশমিত হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

For more information

আরো দেখুন