আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য বিঘ্নের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে যুক্ত হয়েছে বাড়তি ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা ঝুঁকি ব্যয়। এর প্রভাবে এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে অপর শীর্ষ বেঞ্চমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) এবং ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্যের ব্যবধান বেড়ে ১১ ডলারের বেশি দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের সিংহভাগ ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্যে নির্ধারিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর এর সরাসরি চাপ পড়ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গলফ নিউজের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তীব্র ট্যাংকার সংকট জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুদ্ধঝুঁকির কারণে নৌ-বিমা ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা শঙ্কায় অনেক তেলবাহী জাহাজকে প্রচলিত রুটের পরিবর্তে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।
বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে ব্যবহৃত বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা ভিএলসিসি (ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার)-র দৈনিক ভাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক অঞ্চল হিসেবে এশিয়ার দেশগুলোর ক্রেতাদের কাছে তেল পৌঁছানোর মোট লজিস্টিক ব্যয় মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই কৌশলগত জলপথে যে কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আমদানিকারকদের আগাম মজুতের প্রবণতা তেলের বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করছে।
For more information
আরো দেখুন