সিলেট ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

News Room
প্রকাশিত নভেম্বর ১৪, ২০২৪, ০৬:৪৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গু ইস্যুতে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেকটাই নিরাপদ সিলেট। কিন্তু নিরাপদ সিলেটেই হঠাৎই বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় এ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সিলেটের বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধ ছাড়া কোনো উপায় নেই। যেখানে পানি জমে, সেখানে মশার আবাসস্থল হয়ে ওঠে। মশার বিস্তার যেন না ঘটে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি টানাতে হবে। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এতে বাড়ছে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। পুরো বিভাগে গত ১৪ দিনে (১ নভেম্বর -১৪ নভেম্বর) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর শেষ চব্বিশ ঘণ্টায় বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ৪ জন। তবে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কেউ মারা যাননি। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এরমধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১ জন, সিলেট মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১ জন। এছাড়া বছরের শুরু থেকে (১ জানুয়ারি – ১৪ নভেম্বর) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২২৯ জন। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে সিলেট মহানগরীতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। মশার উৎপাতে দিনের বেলাও মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে বা অ্যারোসল স্প্রে করেও মশা থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। মহানগরীর টিলাগড়, শিবগঞ্জ, আম্বরখানা, সুবিদবাজার ও লামাবাজার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১৫-২০ দিন থেকে চরমভাবে মশার উপদ্রব বেড়েছে। চলতি বছর ডেঙ্গুর মহামারি ও রাজধানীতে মৃত্যুর সংখ্যা দেখে আতঙ্কিত তারা। শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দিন-রাত সমান ভাবে মশা কামড়াচ্ছে। কয়েল জ্বালিয়ে বা অ্যারোসল স্প্রে করেও রেহাই পাচ্ছি না। এখন তো বাধ্য হয়ে দিনের বেলাও মশারি টানানোর কথা ভাবছি।’ জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দা বাদশা গাজি জানান, আমাদের এলাকাসহ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার মোড়ে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতে এসব জায়গা থেকে মশা জন্ম নিচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের উচিত নিয়মিত ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা। যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে। কিন্তু তাদের চরম মাত্রায় অবহেলা লক্ষ করছি। তবে মশক নিধনে নজর নেই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মশা নিধনের প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ নেই তাদের কাছে। এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক বছর থেকে নানা সঙ্কটের কারণে মশকনিধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পরিষদে আলোচনা করেছি। চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে সিসিক কার্যক্রম শুরু করবে।

 

For more information

আরো দেখুন|