সিলেট ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেটে জাল দলিলে শত কোটি টাকার সরকারি ভূমি বিক্রি: জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমের হস্তক্ষেপে ৩০ একর উদ্ধার, আটক ৩

News Room
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৩:১৭ অপরাহ্ণ
সিলেটে জাল দলিলে শত কোটি টাকার সরকারি ভূমি বিক্রি: জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমের হস্তক্ষেপে ৩০ একর উদ্ধার, আটক ৩

খাদিমনগর চা বাগানে জালিয়াতি ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত খাদিমনগর চা বাগানের সরকারি লিজকৃত ভূমিতে চলা শত কোটি টাকার জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র বাগানের সরকারি জায়গা জাল দলিল সৃজন করে প্লট আকারে বিক্রি করে দিচ্ছিল। জাল কাগজপত্র দিয়ে বিক্রয় করা এই সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য বসতবাড়ি। চক্রটি এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে বাগান কর্তৃপক্ষও ভয়ে অসহায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে প্রায় ৩০ একর সরকারি ভূমি উদ্ধার হয়েছে, যার বাজার মূল্য কয়েকশ’ কোটি টাকা বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।


জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমের অভিযান ও নির্দেশ

সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সরকারি ভূমি উদ্ধার ও দখলদার উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে তিনি রেলওয়ের মূল্যবান ভূমি দখলমুক্ত করেছেন। গত শুক্রবার তিনি খাদিমনগর চা বাগান পরিদর্শনে গিয়ে এই অবৈধ দখলে থাকা সরকারি ভূমি উদ্ধারের নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সেই সময় জালিয়াতচক্রের সদস্য জনৈক মোজাম্মেল হোসেন লিটন বাকবিতণ্ডায় জড়ালে, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।


মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ও ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া

 

জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পরদিন, গত শনিবার, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনুর রুবাইয়াৎ’র নেতৃত্বে দিনভর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে প্রায় ৩০ একর সরকারি ভূমি উদ্ধার করে ৩০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে একটি ঘরের ভেতর থেকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকও উদ্ধার করা হয়।

এসময় জালিয়াতচক্রের মুলহোতা খাদিমনগর চা বাগানের সাবেক ব্যবস্থাপক মোসাদ্দেক হোসেন কোরেশী এবং তার সহযোগী জাল দলিল সৃজনের হোতা শাহজাহান ওমরকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত তাদের উভয়কে ১ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে। এই জালিয়াতচক্রের বিরুদ্ধে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনুর রুবাইয়াৎ জানান, ভূমিখেকোরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হলেও উচ্ছেদ অভিযানের সময় তারা প্রশাসনকে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়। ভূমি আইনে উচ্ছেদ ও জালিয়াত চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সরকারি ভূমি উদ্ধারে এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে

For more information

আরো দেখুন