নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে গত প্রায় ১০ বছর ধরে বাদাম বিক্রি করে ৬ জনের সংসার চালাচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জের মালেক (১৯)। মোটামুটি টানাটুনি করে হলেও সংসার চলে যায় তার। তবে আজ কয়েকদিন ধরে তার টেনশনে মাথা খারাপ! কারণ? অভিযান।
গোয়াইনঘাট উপজেলার আবুল কালাম (৪৯) সিলেট মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের বোঝা টানছেন। যা আয় হয়, তাতে মোটামুটি চলে যায়। তবে অভিযান আতঙ্কে ভুগছেন তিনিও। কারণ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ সিলেটে সব ধরনের অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হচ্ছে দু’একদিনের মধ্যে।
শুধু মালেক বা কালামই নয়, সিলেট মহানগরীর প্রায় সর্বত্রই এখন অভিযান আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ফুটপাত ও রাজপথে যারা ব্যবসা বাণিজ্য করেন তাদের রাতের ঘুম এখন রীতিমতো হারাম।
নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ছোট্টো একটা বাক্স টেবিল বানিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কাপড়ের ব্যবসা করছেন শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আব্দুল হেকিম (৫২)। সিলেটে আছেন প্রায় ত্রিশ বছর ধরে। একসময় অন্যান্য ব্যবসা করলেও এখন আছেন এই ব্যবসায়। তবে ২২ তারিখের পর কি করবেন, কোথায় যাবেন তা ভাবতে গিয়ে রীতিমতো হতাশ তিনি।
সিলেট এখন যানজটের নগরী। পাশাপাশি বেড়েছে চুরি ছিনতাই দুর্ঘটনা। ফুটপাাততো বটে, স্বয়ং রাজপথ দখল করে চলছে ব্যবসা বাণিজ্য। এ অবস্থা থেকে মুক্তি চান নগরবাসী। মুক্ত করতে চায় সিলেটের প্রশাসনও।
সম্প্রতি সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো.সারোয়ার আলম ঘোষণা করেছেন, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে নগরীর ফুটপাত ও রাস্তায় কোনো হকার বা ছোটো ব্যবসায়ী বসতে পারবেনা। বসলেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ নিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা যাদের আছে তাদের গুটিয়ে নিতে হবে এই সময়ের মধ্যে। রাজপথ-ফুটপাত ছেড়ে তাদের সবাইকে যেতে হবে লালদিঘীরপাড় হকার্স মার্কেটে। নইলে নগর ছেড়ে অন্য কোথাও। জোরালো অভিযান চালাবে প্রশাসন।
এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের নবনিযুক্ত কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী-পিপিএম গত ১৪ সেপ্টেম্বর পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সাথে অনুষ্টিত এক মতবিনিময় সভায় পরিস্কার বলে দিয়েছেন, ২২ সেপ্টেম্বরের পর সিলেট মহানগরীতে কোনো অবৈধ যানবাহন চলতে দেওযা হবেনা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাপারেও এ সময় কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এরপর থেকে চরম আতঙ্কে রয়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা। ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাদের বিরুদ্ধেও শুরু হবে কঠোর অভিযান।
তাদের সাথে যোগ করুন নগরীর ফলমুল, চা বিস্কুট, পান সিাগারেট, ব্রাশ-টুথপেষ্ট, মসলা-তরিকারীওয়ালা থেকে শুরু করে আরও হরেক রকম ব্যবসায়ীদের কাথা। মোট কথা সিলেট মহানগরীর মোট জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশই আছেন এখন অভিযান আতঙ্কে।
প্রায় ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের উপর নির্ভরশীল গড়ে আরও ৩ জন হলে মোট সখ্যা ২ লাখ, আরও ২০ হাজার অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকের উপর নির্ভরশীল আরও ৮০ হাজার, ফলমুল কাপড় ও অন্যান্য ব্যবসার সাথে জড়িত কমপক্ষে আরও অন্তত ২৫ হাজার মানুষের উপর নির্ভরশীলের সংখ্যা ধরে হতে পারে আরও এক লাখ- মোটামুটি ৪ লাখ মানুষ এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
আর তাদের আতঙ্কের নাম অভিযান।
For more information
আরো দেখুন