সিলেটকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করতে দেশে প্রথম ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপনের উদ্যোগ সিসিকের
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেটকে দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। এর অংশ হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো সিলেটে একটি ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই যুগান্তকারী প্রকল্প বাস্তবায়নে সিসিককে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করবে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।
সোমবার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এ রোডম্যাপ টু বিকাম এ প্লাস্টিক পল্যুশন ফ্রি সিটি’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সিলেটকে একটি পরিষ্কার, সবুজ ও প্লাস্টিকমুক্ত আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সিসিক। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সেমিনারে জানানো হয়, প্রস্তাবিত বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে মূলত অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ এবং সুনিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ কাজে লাগিয়ে বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে ফেলা হয়। এর ফলে অপচনশীল ও কঠিন বর্জ্যগুলো পরবর্তীতে নিরাপদ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে। এছাড়া নগরীর লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ২০২৪ সাল থেকে পরিচালিত মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-এর কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা হয়; যেখান থেকে বাছাইকৃত প্লাস্টিক নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের জন্য লাফার্জহোলসিমের ছাতকস্থ প্ল্যান্টে পাঠানো হচ্ছে।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী জানান, দ্রুত নগরায়নের বাস্তবতায় প্লাস্টিক বর্জ্য যাতে সুরমা নদী ও ডাম্পিং স্পটে জমা না হয়ে সম্পদে রূপান্তরিত হয়, সেই লক্ষ্যেই এই যৌথ অংশীদারত্ব কাজ করছে। সেমিনারে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন এবং জিওসাইকেলের প্রধান লতিফুর রহমান ছাড়াও শাবিপ্রবির শিক্ষক, পরিবেশ অধিদপ্তর, উইমেন চেম্বার অব কমার্সসহ পরিবেশবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
For more information
আরো দেখুন