স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটের সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ‘সাদা পাথর’ এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাথরখেকো চক্র। মঙ্গলবার (২০ মে) ভোর থেকে শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে সাদা পাথর এলাকায় ঢুকে পাথর লুটপাট শুরু করে চক্রটি। দিনের আলো ফোটার আগেই দৃশ্যমান হয় বেপরোয়া লুটের তাণ্ডব।
স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেন। ফলে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করলে প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে।
বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক জানান, ‘পাথর লুট ঠেকাতে ইতোমধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান শুরু করা হয়েছে। যে কোনো মূল্যে এ লুটপাট বন্ধ করা হবে।’ দুপুর নাগাদ টাস্কফোর্সের সদস্যরা বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আটক করে যেগুলিতে পাথর ভর্তি ছিল। একইসঙ্গে একাধিক পাথরখেকোকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়রা জানান, অভিযান এখনও চলছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল এবং সংঘবদ্ধ চক্র এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার সুযোগে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের সাথেও লুটেরাদের সখ্যতার বিষয়টিও কারও অজানা নয়।
ভোলাগঞ্জের ‘সাদা পাথর’ এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে। ঝরনার মতো প্রবাহমান স্বচ্ছ স্রোতধারার মাঝে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথরের ভিন্নধর্মী ভূপ্রকৃতি প্রায় ১৫ একরজুড়ে বিস্তৃত। প্রতিবছর হাজারো পর্যটক এই এলাকায় ভিড় করেন। কিন্তু লাগাতার পাথর উত্তোলন এবং নির্বিচার লুটপাটের ফলে এখানকার জীববৈচিত্র্য, নদীপ্রবাহ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি – ভোলাগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং পর্যটনের অপার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে লুটপাট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
For more information
আরো দেখুন