সিলেট , ,

‘ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় গোয়াইনঘাটে হয়রানির শিকার আজমল’

News Room
প্রকাশিত September 28, 2024, 05:40 PM
‘ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় গোয়াইনঘাটে হয়রানির শিকার আজমল’

আওয়াজ ডেস্ক: ছাত্র-আন্দোলনে নেতৃত্ব এবং দুর্নীতির প্রতিবাদ করায়  মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আজমল হোসেন। এমনকি আজমলসহ অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীও করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

আজমল দাবি করেন, গত ২৪ আগস্ট গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীদের বেধম মারধর করেছে বহিরাগতরা। মারধরের ঘটনায় আজমল বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করলেও এখনো মামলাটি এফআইআর করেনি পুলিশ।

গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও উপজেলার লেঙ্গুড়া গ্রামের ফয়সল আহমদের পুত্র আজমল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তিনি উপজেলার সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। গোয়াইনঘাট থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে মিলে আন্দোলন, মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। যেকারনে ঐ সময়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব ও তার সহযোগীরা তাকে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বারবার সতর্ক করেছে এবং আন্দোলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে একাধিক শিক্ষার্থীর উপর হামলা চালিয়েছে। তবুও সকল বাঁধা অতিক্রম করে তিনি গণ আন্দোলনে গোয়াইনঘাটে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এ বিষয়টি স্বৈরাচারী সরকারের অনেকেই ভালোভাবে নেয়নি। ৫ আগষ্টের পর আজমল হোসেন গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্নীতি নিয়ে আরো বেশি সক্রিয় হন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান।  বিশেষ করে ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানান এবং উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

আজমল বলেন, তার তৎপরতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙাখলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযান চালিয়ে গত ২৩ আগস্ট অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে কয়েকটি নৌকা আটক করেন এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেন। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কতিপয় দুষ্টু চক্র তার উপর ক্ষেপে যায়। কারণ তারা মিলেমিশে বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছিল।

আজমলের দাবি,  ঐ দিন অভিযানের পর শক্তিশালী এই চক্রের সদস্য রাসেল আহমদ, সরওয়ার আহমদ,সজিব আহমদ, পাবেল আহমদ, মাহমদ, কুদরত উল্লাহ, সাহেদ আহমদ  ও তাদের লোকজন আজমলের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার পর দিন ২৪ আগস্ট এই বাহিনীর মদদপুষ্ট আরো কিছু বহিরাগত লোক গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের ভেতর ডুকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে হামলা চালায়। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় আজমল নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে ৫ আগষ্টের পর ছাত্রলীগ নেতা রাজীব বিদেশে পালিয়ে গেলেও তার সহযোগীরা এখনো গোয়াইনঘাটে চাঁদাবাজীসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আজমল।

আজমলের দাবি, তিনি কখনো নিজেকে সমন্বয়ক দাবী করেননি। ঐ চক্র মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

 

For more information

আরো দেখুন|