এনসিপির ইফতার মাহফিল: সিলেটে সড়ক বেহাল ও প্রশাসনিক দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা
এনসিপির ইফতার মাহফিল: সিলেটে সড়ক বেহাল ও প্রশাসনিক দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা
News Room
প্রকাশিত March 4, 2026, 11:56 PM
NCP এর সিলেটে বিভাগীয় ইফতার মাহফিল । ছবি-ঈমানী
আবু খায়ের ঈমানী , সিলেট | ০৪ মার্চ ২০২৬
সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ‘দলীয়করণ’-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা চলছে।
সিলেটের NCP এর ইফতার মাহফিলে নাসির উদ্দিন পাটওারী। ছবি- ঈমানী
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও সিলেট শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সিলেটে আসার পথে সড়কের যে দশা দেখেছি, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামর্থ্যবানরা বিমানে যাতায়াত করতে পারলেও শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ এই ভাঙা সড়কে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।” সাংবাদিকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, যেন এই জনদুর্ভোগের বাস্তব চিত্র গণমাধ্যমে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
সিলেটের NCP এর ইফতার মাহফিলে সারজিস । ছবি – ঈমানী
সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি: “নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিহত করা হবে”
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী স্থানীয় নির্বাচনে কোনো ধরণের কেন্দ্র দখল বা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। জুলাই বিপ্লবের বিরোধীদের প্রশ্রয় দিলে সরকার নিজেই ফাঁদে পড়বে।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অন্যান্য বক্তব্য:
নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা: সাধারণ মানুষের ঘরে সিসি ক্যামেরা বা বাউন্সার নেই। বর্তমানে মা-বোনেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ধর্ষণ ও সন্ত্রাস বন্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাদী হত্যার বিচার: তিনি স্পষ্ট করেন, হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁরা একচুলও পিছপা হবেন না।
তরুণদের অধিকার: তরুণদের কর্মসংস্থান ও ব্যবসার অধিকার প্রতিষ্ঠায় এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
ইফতার মাহফিলে এনসিপি নেতাদের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। মাহফিলটি সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক সুসম্পর্কের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। পরিশেষে, নেতারা ‘জুলাই সনদ’ অধ্যাদেশ কার্যকর এবং রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার দাবি জানিয়ে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।