সিলেট ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

১৮ মাসের রাষ্ট্র সংস্কার: খাদের কিনারা থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাংলাদেশ

News Room
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ণ
১৮ মাসের রাষ্ট্র সংস্কার: খাদের কিনারা থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আজ ১৮ মাস পর, তারা একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিশাল খতিয়ান উন্মোচন করেছে।

১. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন

অর্ধ-শতাধিক সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে এই সরকার গত ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি নতুন ও সংশোধনী আইন এবং ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এই সংস্কারগুলোর প্রায় ৮৪ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে ওঠার বড় প্রমাণ।

২. অর্থনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে দায়িত্ব নিলেও সরকারের কূটনৈতিক দূরদর্শিতা বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি বয়ে এনেছে:

  • জাপান: অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে ৭,৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র: শুল্কহার ৩৭% থেকে ২০%-এ নামিয়ে আনার আলোচনা তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন অক্সিজেন হিসেবে কাজ করছে।

  • চীন ও ভারত: ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে ঋণ ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

৩. ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা

লুটপাটে বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদার করা এবং ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ই-প্রকিউরমেন্ট বা স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে বিবিএস-এর (BBS) তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে পরিসংখ্যানগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

৪. বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আমূল পরিবর্তন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরণের ‘ক্লিনজিং ড্রাইভ’ চালানো হয়েছে:

  • র‌্যাব পুনর্গঠন: বিতর্কিত ‘র‌্যাব’-কে ভেঙে দিয়ে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করে “স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স” হিসেবে নামকরণ ও পুনর্গঠন করা হয়েছে।

  • বিচার বিভাগ: মেধাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের ওপর থেকে নির্বাহী বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করার মাধ্যমে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলকে কলঙ্কমুক্ত করা হয়েছে।

৫. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা বিতর্কিত কালো আইন ও রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের ফলে সাংবাদিকরা এখন নির্ভয়ে কাজ করতে পারছেন। বন্ধ হওয়া গণমাধ্যমগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে, যা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।


পরিশেষ: ১৬ বছরের পরিকল্পিত ক্ষতি ১৮ মাসে পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া অসম্ভব হলেও, অন্তর্বর্তী সরকার স্বৈরাচারী কাঠামোর বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে একটি নাগরিকবান্ধব ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার শক্ত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আগামীকাল নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে এই সংস্কারের সুফল ভোগ করার দায়িত্ব এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর।


বইটির পিডিএফ লিংক: এখানে ক্লিক করুন

For more information

আরো দেখুন