নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের গণভোট মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটারদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে—তারা এই প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর পক্ষে (হ্যাঁ) নাকি বিপক্ষে (না)।
‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাংলাদেশ যা পাবে:
যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়, তবে সংবিধানে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব কার্যকর হবে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে নিম্নলিখিত আমূল পরিবর্তনগুলো আসবে:
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা: কোনো ব্যক্তি জীবনে দুই মেয়াদের বেশি (সর্বোচ্চ ১০ বছর) প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: বর্তমানে এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ থাকলেও, ‘হ্যাঁ’ জিতলে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী একইসাথে দলের প্রধান থাকতে পারবেন না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
মৌলিক অধিকার ও বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং ইন্টারনেট সেবার মতো বিষয়গুলো মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হবে।
সংসদে প্রতিনিধিত্ব: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। নারীদের প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে।
‘না’ ভোট দিলে যা হবে:
যদি গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তবে প্রস্তাবিত এই সংস্কারগুলো বাতিল হয়ে যাবে এবং দেশ পূর্বের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবে।
পুরানো ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন: জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ।
ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ: প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধনের সুযোগ আগের মতোই বহাল থাকতে পারে।
অনিশ্চয়তা: নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার প্রক্রিয়া থমকে যেতে পারে।
For more information
আরো দেখুন