বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা: কমিশন রিপোর্ট
২০০৯ সালে সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ, রোববার (৩০ নভেম্বর), তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে আওয়ামী লীগ জড়িত এবং এই পুরো ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান এবং অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
তদন্তে কী উঠে এলো?
কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানান, তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ বেরিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত, এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
আওয়ামী লীগের ভূমিকা: জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছিল এবং বের হওয়ার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিল।
বহিঃশক্তির সংযোগ: কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান জানান, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দায়ভার: জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানান, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। তিনি এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও দায় দেখিয়েছেন। এছাড়া পুলিশ, র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও চরম ব্যর্থতা ছিল।
তদন্তের স্বচ্ছতা ও কমিশনের সুপারিশ
কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং অনেকে বিদেশে চলে গেছেন। তবে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রেখে সাক্ষীদের ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য শোনা ও তদন্তে জড়িতদের রিপোর্ট সংগ্রহের মাধ্যমে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। তিনি জানান, এই তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে কার কী ভূমিকা ছিল এবং কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থাকল, অ্যাকশন নিল না।
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই ঘটনার ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার পায়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই সময় কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ছিল। আপনারা সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন, জাতি তা স্মরণে রাখবে। ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘটনা নিয়ে জাতির অনেক প্রশ্ন ছিল, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে।”
For more information
আরো দেখুন