জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদের খতিব।
জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে (চন্দ্রিমা উদ্যান) তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা
জানাজা ও দাফন ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান:
১. নিরাপত্তা বাহিনী: জানাজা ও দাফন চলাকালীন শৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকবে। ২. জনসাধারণের প্রবেশ: দাফন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে সাধারণ জনগণের প্রবেশ সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ থাকবে। ৩. নিষেধাজ্ঞা: নিরাপত্তার স্বার্থে জানাজা ও দাফনস্থলে আগতদের কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল থেকে সংসদ ভবনে মরদেহ স্থানান্তর
বুধবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সংসদ ভবন চত্বরে আনা হবে। মরদেহ বহনকারী গাড়ি যে রুট দিয়ে যাবে, সেই রাস্তার দুই পাশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শোকাতুর স্বজন ও দেশবাসী
মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুর সময় হাসপাতালে বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
বেগম জিয়ার প্রয়াণে বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটি এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে সরকার। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে দলমত নির্বিশেষে পুরো বাংলাদেশে এখন গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
For more information
আরো দেখুন