নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হবে ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস। বর্তমানে আমাদের দেশেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই দিবসটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ এবং মুসলিম সংস্কৃতির বিবেচনায় এই দিবসটির পালন নিয়ে অনেক মৌলিক প্রশ্ন ও দ্বিমত রয়েছে।
উৎপত্তি ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভ্যালেন্টাইনস ডে-র উৎপত্তি মূলত প্রাচীন রোমানদের ‘লুপারক্যালিয়া’ নামক একটি পৌত্তলিক উৎসব থেকে, যা পরবর্তীতে খ্রিস্টান পাদ্রী সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে পরিবর্তিত হয়। ইসলামি স্কলারদের মতে, এটি একটি ভিন্নধর্মী ধর্মীয় উৎসব থেকে উদ্ভূত সংস্কৃতি। ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, অন্য জাতির ধর্মীয় উৎসব বা বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ মুসলিমদের জন্য শোভনীয় নয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে ভালোবাসা ও নৈতিকতা
ইসলাম ভালোবাসাকে অস্বীকার করে না, বরং এটিকে একটি পবিত্র ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। তবে ইসলামে ভালোবাসার সংজ্ঞায় পবিত্রতা ও নৈতিকতার স্থান সবার উপরে।
সীমানা: ইসলামে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম)। ভ্যালেন্টাইনস ডে-কে কেন্দ্র করে অনেক সময় তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়, যা পবিত্র কোরআনের সুরা বনী ইসরাঈলের ৩২ নম্বর আয়াতের পরিপন্থী।
সাদৃশ্য বর্জন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে” (আবু দাউদ)। এই নীতি অনুযায়ী, নিজস্ব ধর্মীয় স্বকীয়তা বজায় রাখা মুসলিমদের জন্য জরুরি।
ভালোবাসার প্রকৃত সময়
ইসলামি পণ্ডিতরা মনে করেন, ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিনের ফ্রেমে বন্দি নয়। বাবা-মা, ভাই-বোন এবং বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভালোবাসা সারা বছরের জন্য। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্কের বন্ধন ও পারস্পরিক উপহার বিনিময়কে উৎসাহিত করা হয়েছে, তবে তার জন্য খ্রিস্টানদের প্রবর্তিত ১৪ ফেব্রুয়ারি বা বিশেষ কোনো রঙের পোশাকের প্রয়োজন নেই।
উপসংহার
ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আনন্দ যদি শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে রূপ নেয়, তবে তা একজন সচেতন মুসলিমের জন্য বর্জনীয়। মুসলিম উম্মাহর নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও নৈতিক আদর্শ রয়েছে, যা বছরের প্রতিটি দিন একে অপরকে ভালোবাসতে এবং শ্রদ্ধা করতে শেখায়।
For more information
আরো দেখুন