সিলেট ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র, উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

News Room
প্রকাশিত জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র, উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ ও বিতর্কের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে সামরিক বিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নর্থ আমেরিকান এয়ারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়, যা আর্কটিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ প্রতিরক্ষা সংস্থা নোরাড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সামরিক বিমান শিগগিরই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে পৌঁছাবে। সংস্থাটির দাবি, এই মোতায়েন পূর্বপরিকল্পিত বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমের অংশ এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ডেনমার্কের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।

নোরাড আরও জানিয়েছে, ডেনমার্কের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই সামরিক মোতায়েন হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব বিমান উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ‘ডিসপার্সড অপারেশনস’-এর অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

পিটুফিক স্পেস বেস, যা আগে থুলে এয়ার ফোর্স বেস নামে পরিচিত ছিল, গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা। এই ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আর্কটিক অঞ্চলের নজরদারি ও কৌশলগত যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা নোরাডের প্রতিরক্ষা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবিক কোনো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন নেই। কারণ নোরাডসহ বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্ষম। তাদের মতে, সামরিক মোতায়েনের এই ঘোষণা মূলত রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টির একটি অংশ।

ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড তার কৌশলগত আর্কটিক অবস্থান, বিপুল খনিজ সম্পদ এবং রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আশঙ্কার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় পক্ষই স্পষ্টভাবে গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরের যে কোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং দ্বীপটির ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

For more information

আরো দেখুন