আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজার ওপর দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ ভাঙতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে বিশ্ব নাগরিকদের উদ্যোগ Global Sumud Flotilla সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেছে। প্রায় ৪০টি জাহাজে ৪৪টি দেশ থেকে ৫০০–৭০০ জন মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
১৩ সেপ্টেম্বর টিউনিসিয়ার বীজের্তা (Bizerte) বন্দর থেকে বহরের মূল অংশ যাত্রা শুরু করে। পাশাপাশি গ্রীসের Syros দ্বীপ, ইতালির কাতানিয়া (সিসিলি) ও স্পেনের বার্সেলোনা থেকেও কয়েকটি জাহাজ এই বহরে যুক্ত হয়েছে।
যাত্রার শুরুতেই নানা বাধার মুখে পড়ে ফ্লোটিলা। টিউনিসিয়ার Sidi Bou Said বন্দরে “Family Boat” নামে একটি জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কা তৈরি হলেও যাত্রীরা সবাই নিরাপদ আছেন। পরদিন একই বন্দরে আরেকটি নৌকায় দ্বিতীয় ড্রোন হামলা হয়। এসব ঘটনার কারণে আয়োজকরা রুট পরিবর্তন ও নিরাপত্তা জোরদার করেছেন।
এই অভিযানে অংশ নিয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, কাতারসহ আরও বহু দেশ। বাংলাদেশের কয়েকজন নাগরিকও নৌযাত্রায় রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও ইসলামাবাদসহ একাধিক দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করেছেন— “নৌবহরের ওপর কোনো অবৈধ হামলা হলে তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হবে এবং এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিতে হবে।”
পরিচিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আছেন সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন।
সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বহরের কিছু জাহাজ ইতালির Pantelleria দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গাজায় পৌঁছাতে তাদের আরও প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। আয়োজকদের আশা, সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগেই তারা গাজা উপকূলে পৌঁছাতে পারবেন।
আয়োজকদের দাবি, Global Sumud Flotilla-র মূল লক্ষ্য হলো গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং চলমান অবরোধের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
For more information
আরো দেখুন