স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চ আদালতে নীচে আটকে থাকা সিলেটে ইজারাকৃত জলমহাল লুট করে নিয়েছেন এলাকার লোকজন। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার মাছ মারা হয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠেছে।
শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) সকালে দক্ষিণ সুরমার শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকার মেদ্দী বিলে এ ঘটনা ঘটে। জাল ফেলে ও পলো বেয়ে মাছ লুট করে নেন ওই এলাকার কতিপয় লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দিনদুপুরে পুলিশের সামনে সরকারী মেদ্দী বিল জলমহাল লুট করে নেওয়া হয়। দিনভর জাল, পল বেয়ে বিভিন্ন সরঞ্জম দিয়ে মাছ ধরেন লোকজন।
জানা যায়, বিলটি প্রতি বছর জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেওয়া হয়। গত ২ বছর থেকে ইজারা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এই সুযোগে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপির লোকজন বিল থেকে দিনে রাতে মাছ শিকারে করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় মৎসজীবী সম্প্রদায়ের লোকজন বিলের মাছ শিকার বন্ধে উদ্যোগী হলেও তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে, বিলের মাছে রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসন কোন ভূমিকা নেয়নি।
এমনকি মোগলাবাজার থানা পুলিশের একটি টিম মাছ ধরার সময় বিলের পাশে অবস্থান করলেও অবৈধভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ মাছ লোপাটকারীদের কাছ থেকে আর্থিক সুযোগ নিয়ে মাছে লুটে সহায়তা করেছে।
মৎসজীবী দিলিপ বলেন, দুইবছর আগে বিলের ১০ লাখ টাকায় টেন্ডার হয়। আমরা ছিটা গোটাটিককর মৎসজীবী সমবায় সমিতি পে অর্ডারের মাধ্যমে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেই। কিন্তু সোনালী মৎসজীবী সমবায় সমিতি উচ্চ আদালতে রীট করে। যে কারণে বিল ফিসিং আটকে আছে। শনিবার শ্রীরামপুর এলাকার কতিপয় লোকজন এসে মাছ ধরে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, মামলা চলমান থাকায় জেলা প্রশাসন থেকে বিলটি রক্ষণাবেক্ষণে উপজেলা ভূমি সহকারিকে (এসি ল্যাণ্ড) দায়িত্ব দেওয়া হয়। শনিবার মাছ লুট করার বিষয়টি প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাছ রক্ষায় তারা প্রশাসনের দরজায় বারবার গেছেন, কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়নি, যে কারনে প্রশাসনের সামনে সরকারী সম্পদ হরিলুট করলো দুর্বৃত্তরা।
মেদ্দী বিল থেকে মাছ লুটের ঘটনাটি জানতেন না জানিয়ে সহকারি কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আলীম উল্লাহ খান বলেন, মাছ লুটের ঘটনা আমাকে কেউ জানায়নি। জানতে পারলে পদক্ষেপ নিতাম। এর সপ্তাহ দিন আগেও এভাবে মাছ লুটের চেষ্টাকালে লোকজনকে পুলিশ নিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়ছল মাহমুদ বলেন, মাছ লুটের বিষয়টি জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু লোকজন বেশি থাকায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।