সিলেট ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

জামালগঞ্জ সরকারি কলেজে ছাত্রী হোস্টেলে অনৈতিক সামগ্রী: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ

News Room
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ণ
জামালগঞ্জ সরকারি কলেজে ছাত্রী হোস্টেলে অনৈতিক সামগ্রী: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ

মোঃ আব্দুল বাছির, সুনামগঞ্জ | 

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে কনডম উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস জুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর প্রতিবাদে বুধবার দিনভর বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তাঁর কক্ষে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ঘটনার সূত্রপাত

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল সাময়িকভাবে ওই ছাত্রী হোস্টেলে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে ভবনটি পরিষ্কার করার সময় বাথরুমে কিছু কনডমের প্যাকেট পাওয়া যায় বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ

বুধবার সকাল ১১টার দিকে জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে কয়েকশ শিক্ষার্থীর একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি সেনাবাহিনীকে কলেজ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানালেও অধ্যক্ষ কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেননি। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘হলের অনিয়ম ও অনৈতিকতা’ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে-কে তাঁর কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় হল সুপার মুজিবুর রহমান এবং ইতিহাস বিভাগের প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল বলেন, “শুরুতেই কলেজ প্রশাসন উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হতো না। আমরা দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরিয়েছি। শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুরানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, এই হোস্টেলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ ছিল। ইতিপূর্বে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় এবারের এই অনৈতিক ঘটনা শিক্ষার্থীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

For more information

আরো দেখুন