সিলেট ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেট সীমান্তে বেপরোয়া চোরাচালান সিন্ডিকেট, ১৪ মাসে ১৫ হত্যা

News Room
প্রকাশিত মার্চ ২৩, ২০২৫, ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ
সিলেট সীমান্তে বেপরোয়া চোরাচালান সিন্ডিকেট, ১৪ মাসে ১৫ হত্যা

সিলেট সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাচালান সিন্ডিকেট। নিজেদের মধ্যে কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে লেনদেনে বনিবনা না হলেই ঘটছে একের পর এক হত্যা। এভাবে গত ১৪ মাসে ১৫ জন খুন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু তা-ই নয়, সিন্ডিকেট সদস্যরা বিজিবি সদস্যদের ওপর আক্রমণ করতেও পিছপা হচ্ছে না। গত ১৬ মার্চ জৈন্তা সীমান্তে দুই জন বিজিবি সদস্যকে রক্তাক্ত করে আটক বেশ কয়েকটি গরু ছিনিয়ে নেয় চোরাচালানিরা।

বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্তের কিছু লোক পেশা হিসেবে চোরাচালানকে বেছে নিয়েছে। তারা আবার অবৈধভাবে সীমান্তে পাড়ি দিয়ে খাসিয়াদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে । প্রতি মাসেই একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের আড়াই মাসে বিএসএফ ও ভারতীয় খাসিয়াদের হাতে মারা গেছেন সাত জন। এছাড়া গত বছর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন আট জন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই দেশের চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের মধ্য লেনদেন নিয়েই এসব হত্যার ঘটনা ঘটছে। ভারতের ভেতরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় এসব ঘটনায় বাংলাদেশে কোনো মামলাও হচ্ছে না।

গত ১৯ মার্চ সবশেষ গোয়াইনঘাট সীমান্তে চোরাচালানিদের দ্বন্দ্বে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে দুই জন বাংলাদেশি আহত হন। এর আগে গত ৬ মার্চ ভারত থেকে চিনি আনতে গিয়ে প্রাণ হারান কানাইঘাটের শাহেদ মিয়া। ২১ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের বাউসারী এলাকায় রাজিব সরকার চোরাচালানের দ্বন্দ্বে নিহত হন। ২৬ জানুয়ারি কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকরা কুপিয়ে খুন করে দশটিকি ইউনিয়নের নয়াবস্তি গ্রামের আহাদ মিয়াকে। ৮ জানুয়ারি বিশ্বম্ভরপুরের মাছিমপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন সাইদুল ইসলাম। ৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বড় কেয়ারা সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকরা পিটিয়ে হত্যা করে জহুর আলীকে।

জেলা পুলিশ জানায়, চোরাই মাল প্রায় সময় ধরা পড়ছে। চোরাই পণ্য জব্দের ঘটনায় গত আড়াই মাসে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এসএমপি ২৯টি ও জেলা পুলিশ ৩৭টি মামলা করেছে। কিন্তু দুই-চার জন ‘ক্যারিয়ার’ ধরা পড়লেও নেপথ্যের বড় কারবারিরা রয়ে যাচ্ছে অধরা।

সীমান্ত পথে যে সব পণ্য আসে: সিলেটে দীর্ঘ সীমান্ত পথ উন্মুক্ত নিরাপদ রুট। এ সব পথ দিয়ে চোরাই চিনি, মাদক, কাপড়, অস্ত্র, গরু, ইয়াবা, মোটরসাইকেল, শীতের কম্বল, সিগারেট, পাতার বিড়ি, কিশমিশ, আপেল, বিস্কুট, ভারতীয় সুপারি, ভারতীয় এয়ারগান, ছররা গুলি, কাশ্মীরি শাল, শাড়ি, থ্রি পিস, মাই ফেয়ার ক্রিম, পন্ডস ব্রাইট বিউটি ক্রিম, গার্নিয়ার ম্যান ফেসওয়াশ, সাবান, সার্ফ এক্সেলসহ বিভিন্ন বিভিন্ন প্রসাধনীসহ কোটি কোটি টাকার পণ্য আসে। যায় রসুন, শিং মাছ ইত্যাদি। সূত্র মতে, গত বছর সিলেট সীমান্তে অন্তত দেড় শত কোটি টাকার চোরাই পণ্য আটক করা হয়।

চুরি-ছিনতাই বাড়ছে: এদিকে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অপরাধী চক্র ও ছিনতইকারীরা তৎপর হয়ে উঠেছে। নগরীতে মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছে এসএমপি। গত আড়াই মাসে বিভিন্ন থানায় ২৬টি চুরি ও চারটি ছিনতাই মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির এডিসি সাইফুল ইসলাম।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জরুরি সভা হয়েছে । জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জরুরি কনট্রোল রুম খোলা হবে।

For more information

আরো দেখুন