টিকিট আছে ১৬০০, যাত্রী ৫ হাজার
সিলেট-আখাউড়া সেকশনে রেলযাত্রীদের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকিট সংকট। মৌলভীবাজার জেলার গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্টেশন— শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমসেরনগর ও কুলাউড়া থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে চাইলেও তাদের জন্য বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৬০০।
যাত্রীদের তুলনায় টিকিটের এই অপ্রতুলতা এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইঞ্জিন বিকল ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিডিউল বিপর্যয়
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ি ও উঁচু-নিচু পথে চলার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ইঞ্জিনের প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত ইঞ্জিনের অভাবে মেরামত করা পুরনো ও দুর্বল ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছে। ফলে পথে প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটছে। একটি ইঞ্জিন বিকল হলে বিকল্প কোনো ইঞ্জিন দেওয়ার ক্ষমতা রেলওয়ের নেই।
ঢাকাগামী ও সিলেটগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস গত কয়েকদিন ধরে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। রাত ১০টার ট্রেন কখনও ১২টা, আবার কখনও রাত ২টায় ছাড়ছে। ট্রেনের এই নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ে স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নারী ও শিশুদের নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন পার করছেন যাত্রীরা।
আশ্বাসে কাটছে না জরাজীর্ণ দশা
গত বছর এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সিলেট ও কুলাউড়ায় স্থানীয়রা আন্দোলন করেছিলেন। সে সময় রেল কর্তৃপক্ষ সংস্কারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। পারাবত এক্সপ্রেসের যাত্রী মাইদুল ইসলাম ও সেলিম আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিলেট অঞ্চলের প্রতিটি ট্রেনের ইঞ্জিন দুর্বল। আমাদের স্টেশনে বসিয়ে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জীবন নষ্ট করা হচ্ছে। আন্দোলনের পরও রেলওয়ের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
শমসেরনগর স্টেশনের মাস্টার রজত কুমার রায় জানান, কয়েকটি কারণে ট্রেনগুলো বিলম্বে চলছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো শীতের তীব্র কুয়াশা এবং ইঞ্জিনের সক্ষমতা কমে যাওয়া। তিনি আরও যোগ করেন, “যাত্রীর তুলনায় টিকিটের যে বরাদ্দ, তা দিয়ে কোনোভাবেই চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।”
রেলওয়ের কারিগরি বিভাগ জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকায় চলার উপযোগী বিশেষায়িত ইঞ্জিনের অভাব এবং নিয়মিত মেরামত করতে গিয়ে ওয়াশ ও রেস্টের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়াও এই সংকটের অন্যতম কারণ।
For more information
আরো দেখুন