এয়ারগান থেকে মরণাস্ত্র: নতুন আতঙ্কের নাম ‘এয়ারগান’
সিলেটে একসময়ের জনপ্রিয় পাখি শিকারের অস্ত্র ‘এয়ারগান’ এখন নতুন এক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্ত দিয়ে চোরাকারবারিদের হাত ধরে দেশের অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ এই এয়ারগান ঢুকছে এবং সন্ত্রাসীদের সংস্পর্শে এটি পরিবর্তিত হয়ে প্রাণঘাতী ‘একনলা বন্দুক’ নামক আগ্নেয়াস্ত্রে পরিণত হচ্ছে। বন্যপ্রাণী রক্ষার নামে ব্যবহৃত এই অস্ত্রটি দেশে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এটি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সিলেটের বিভিন্ন প্রান্তে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সিলেটজুড়ে জনমনে শঙ্কা ও আতঙ্ক বাড়ছে।
১৬ মাসে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
গত ১৬ মাসে সিলেট বিভাগের ৪ জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সম্মিলিতভাবে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে।
| জব্দকৃত সামগ্রীর বিবরণ | সংখ্যা/পরিমাণ |
| আগ্নেয়াস্ত্র (দেশি-বিদেশি) | ২৫টি |
| গুলি/গোলাবারুদ | ১০০ রাউন্ড |
| ম্যাগাজিন | ৪টি |
| বিস্ফোরক | ৩,৩৫৫ গ্রাম |
| ডেটোনেটর | ১৮টি |
| সাউন্ড গ্রেনেড | ১টি |
| এয়ারগান | ৮টি |
উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্রের সঙ্গে কাউকে আটক না করায় এবং জিডি মূলে থানায় হস্তান্তর হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কোন অদৃশ্য হাত এই অস্ত্রগুলো সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে?
জুলাই অভ্যুত্থানে লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থতা
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় এসএমপি পুলিশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুণ্ঠিত ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পুলিশ এ পর্যন্ত মাত্র ৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছে। বাকি ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। একইভাবে, লুণ্ঠিত ৫ হাজার ৭৪০ রাউন্ড গুলির মধ্যে মাত্র ৫৪১ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে, ফলে ৫ হাজার ১৯৯ রাউন্ড গুলির কোনো হদিস এখন পর্যন্ত নেই। এসএমজি, চায়না রাইফেল, পিস্তল, শটগান এবং গ্যাস গানসহ এই লুন্ঠিত অস্ত্রগুলো নির্বাচন বা নাশকতার কাজে পুনরায় ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব-৯ এর সাম্প্রতিক অভিযান ও কৌশল
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি নভেম্বর মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১টি শটগান, ৮টি এয়ারগান ও ১টি সাউন্ড গ্রেনেডসহ বিপুল গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক উদ্ধার: ২৯ নভেম্বর জৈন্তাপুরে আবর্জনার স্তুপ থেকে পিস্তল সদৃশ দেশীয়ভাবে তৈরি দুটি অস্ত্র উদ্ধার হয়, যা নাশকতার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এয়ারগানের রূপান্তর: গত ২০ নভেম্বর বিয়ানীবাজারের একটি শটগান উদ্ধার করে র্যাব জানায়, এটি সহজে বহন এবং নাশকতার কাজে ব্যবহারের জন্য এয়ারগান থেকে ১২ বোর কার্টিজ ফায়ারের উপযুক্ত করা হয়েছিল।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ নিশ্চিত করেছেন, লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও সীমান্তপথে অবৈধ অস্ত্রের জোগান বন্ধে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান অভিযান অব্যাহত আছে।
For more information
আরো দেখুন